রাজশাহীতে কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে সমাবেশ

মো: নুরে ইসলাম মিলন, রাজশাহী ব্যুরো:

রাজশাহীর পবা উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল করিম শাহর বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় কলেজের ফটকের সামনে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের পাশে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক বেগম নারগীস আরা।

কলেজের প্রভাষক শামীম রেজার পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন— কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজ, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম গাউস, অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক ইসমাইল আমানুল্লাহ্, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সৈয়দ আবু বরকত, গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি খন্দকার এনামুল হক, সহকারী অধ্যাপক মজিবুর রহমান, আইনজীবী বাবুল হোসেন ও শিক্ষার্থী সালমা খাতুন প্রমুখ।

বক্তারা বিচারাধীন জমির বিষয় নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়েরের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান। সমাবেশ থেকে তারা মামলাটি দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, আনারুল ইসলামসহ একটি চক্র জমিটি দখল করে নিয়েছে। এমনকি কলেজ গেটের পাশের নয়নজুলি ভরাট করে সরকারি সম্পত্তিও দখল করেছে তারা। কলেজ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় তারা ঘটনার সঠিক তদন্ত দাবি করেন।

উল্লেখ্য, কলেজের সামনের কিছু জমি নিয়ে একটি পক্ষের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের মামলা চলছে। মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় চার ব্যক্তির ৩.২০ শতক জমি বিক্রির ঘটনা ঘটে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, আগের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন ক্রেতারা জমির দখল নিতে পারেন না। সম্প্রতি নতুন ক্রেতারা সেখানে ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে কলেজ কর্তৃপক্ষ পুলিশের মাধ্যমে বাধা দেয়। এ নিয়ে আনারুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সম্প্রতি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, যেখানে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি অধ্যক্ষকে হাজির হতে সমন জারি করেছেন। তবে মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, অধ্যক্ষ কোনো ধরনের হুমকি দেননি; বরং হয়রানি করতেই তার নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।

জানতে চাইলে মামলার বাদী আনারুল ইসলাম বলেন, “কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ কাশিয়াডাঙ্গা মৌজায় অবস্থিত, যা পবা উপজেলার মধ্যে। আমি গোয়ালপাড়া মৌজায় জমি কিনেছি যা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত। জমি কেনার আগেই অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করেছিলাম, তখন তিনি নিষেধ করেননি। এখন জমি কেনার পর তিনি আগের মামলা সামনে আনছেন। সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে আমার জমিতে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমি ন্যায়বিচার চাই।”

এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল করিম শাহ বলেন, “বিরোধপূর্ণ জমিটি কলেজের সীমানার বাইরে এবং গোয়ালপাড়া মৌজার বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার। গত ১১ অক্টোবর পবা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার বিরোধপূর্ণ জমিটি জরিপ করেন। জরিপে দেখা যায়, জমিটি কাশিয়াডাঙ্গা মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ৪১৫ নম্বর দাগে অবস্থিত। তারা রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক এই জমি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। আমিও এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *