নিজস্ব প্রতিবেদক:
“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত ‘জীবননগর মানবিক সংগঠন’ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কয়েকটি এতিমখানা এবং স্বল্প আয়ের ১৫০ জন মানুষের মাঝে নতুন ঈদের পোশাক বিতরণ করেছে সংগঠনটি।
শুক্রবার বিকেলে এক আনন্দঘন পরিবেশে এই নতুন পোশাক বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সংগঠনের একঝাঁক তরুণ ও উদ্যমী সদস্যের উপস্থিতিতে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের একনিষ্ঠ সদস্য সোহাগ হোসেন, সোহেল, আব্দুস সবুর এবং আব্দুল হালিমসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। নতুন পোশাক হাতে পেয়ে মানুষের মুখে যে অনাবিল হাসি ফুটে ওঠে, তা উপস্থিত সকলের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
সংগঠনটির এই মহতি উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এইচ এম হাকিম মুঠোফোনে জানান, জীবননগর মানবিক সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলী এবং সকল সদস্য দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার গরিব, দুঃখী, অসহায় এবং ছিন্নমূল মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদ মানেই আনন্দ, আর এই আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যখন আমরা সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। জীবননগর উপজেলার প্রায় সকল মানুষ আমাদের এই কার্যক্রমের বিষয়ে অবগত আছেন। পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার উদ্দেশ্যে আমরা শুক্রবার বিকেলে ১৫০ জন মানুষের জন্য নতুন ঈদের পোশাক বিতরণ করেছি। আমাদের জীবননগর মানবিক সংগঠনের এই মানবিক কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”
এই আয়োজনে অর্থ দিয়ে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন চুয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আসাদুল হক। এছাড়াও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী মুজাহিদুল ইসলাম আলিফ, নির্বাহী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ এবং জীবননগর মানবিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক এইচ এম হাকিম ব্যক্তিগতভাবে এই কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখেন।
উল্লেখ্য, জীবননগর মানবিক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সেবা এবং বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে সংগঠনটি যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে, তা ইতোমধ্যে জীবননগর উপজেলায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এলাকাবাসী মনে করেন, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি এভাবে নিয়মিত এগিয়ে আসেন, তবে সমাজে কোনো মানুষই উৎসবের দিনে আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে না।