স্টাফ রিপোর্টার:
শ্যামপুর থানাধীন শ্যামপুর থানা–এর মুরাদপুর মাদ্রাসা রোড এলাকায় সম্প্রতি একটি বহুতল ভবন নির্মাণকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মুরাদপুর মাদ্রাসা রোড-এ নির্মিত এই ভবনটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর নির্ধারিত নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যম প্রতিনিধির প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, যৌথ মালিকানাভিত্তিক এই ভবনটি নির্মাণের দায়িত্ব নেয় আজোয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি মূলত ফ্ল্যাট বিক্রির উদ্দেশ্যে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিক এবং ফ্ল্যাট ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে কাজ শুরু হলেও ভবিষ্যতে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা দুর্ঘটনা ঘটলে কোম্পানিটি দায় এড়িয়ে যেতে পারে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ভবন নির্মাণে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ও বিধিমালা মানা হয়নি। বিশেষ করে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভবনের সামনে, ডান পাশে, বাম পাশে এবং পেছনে পর্যাপ্ত খালি জায়গা রাখার যে সরকারি নিয়ম রয়েছে, তা অনুসরণ করা হয়নি বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা আরও জানান, ভবনটির নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। তাদের ধারণা, অতীতে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এ ধরনের প্ল্যান অনুমোদন পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলেও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সঠিক তদন্ত করা হলে ভবন নির্মাণে আরও ত্রুটি ও বিচ্যুতি বেরিয়ে আসতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তারা মনে করেন এই ভবনের নির্মাণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ছিল না এবং নির্মাণকালে যথাযথ তদারকি করা হয়নি।
তাদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। রাজউকের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে অনিয়মের সত্যতা যাচাই করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী আরও জানান, ভবনটিতে বসবাসরত ও ভবিষ্যৎ ফ্ল্যাট ক্রেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের অনিয়ম বা ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা আইনি জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।