স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার মোহাম্মদপুর এর ডি-৪ সেক্টর, বসিলা ব্রিজ সংলগ্ন একটি ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) পয়েন্টকে ঘিরে উঠেছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই পয়েন্টে সরকারি নির্ধারিত দামে চাল ও আটা বিক্রির কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পরে পয়েন্টটিতে কোনো গ্রাহকের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়নি। অথচ গোপন সূত্রে জানা যায়, এখানে নিয়মিতভাবেই ওএমএস পণ্য বাইরে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল ও আটা খোলাবাজারে বা কালোবাজারে পাচার হচ্ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে বিক্রেতার কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, সেখানে ৪ থেকে ৫ বস্তা চাল মজুদ রয়েছে। তবে বাস্তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, শুধু আটা সংরক্ষিত রয়েছে এবং চালের কোনো বস্তা চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্টরা জানান, আটার চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এবং প্যাকেটজাত হওয়ায় সেটি সরাসরি কালোবাজারে বিক্রি করা কঠিন। ফলে গ্রাহকের কাছে আটা সরবরাহ করা হলেও চাল নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিয়মের অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দিষ্ট ডিলার মোঃ জাবের হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এই পয়েন্ট পরিচালনা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সরকারি বরাদ্দের চাল নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি না করে বাইরে বেশি দামে বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করছেন। এতে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং নিম্ন আয়ের মানুষ সঠিকভাবে সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকরা চাল চাইলে তাদের জানানো হয় যে চাল শেষ হয়ে গেছে। অথচ বিভিন্ন সময়ে একই পয়েন্ট থেকে চাল বাইরে সরবরাহ করা হয় বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এতে করে ওএমএস কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলেন, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ওএমএস কার্যক্রমের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে। পাশাপাশি সরকারি সহায়তার প্রকৃত সুফল থেকে বঞ্চিত হবেন দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা দ্রুত তদারকি জোরদার, নিয়মিত মনিটরিং এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।