মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জ শহরকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করে ঝকঝকে ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করা হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) পিপল’স এডাপটেশন প্ল্যান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ শহর একসময় সবুজে ঘেরা ছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীপাড়ের মানুষের বসতি শহরমুখী হওয়ায় চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে দ্রুত শিল্পায়নের ফলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে পুরো জেলা একটি নগরীতে রূপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে কর্মসংস্থান ও শ্রমিকদের উপস্থিতির কারণে প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ শহরে বসবাস করছে। অতীতে উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাস্তা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থায় সুদূরপ্রসারী চিন্তার অভাব ছিল, যার ফলে শহরটি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে এবং বর্জ্যের শহরে পরিণত হয়েছে।
নাসিক প্রশাসক বলেন, “ছোটবেলায় আমরা নারায়ণগঞ্জের পুকুরের স্বচ্ছ পানিতে গোসল করতাম। এখন শীতলক্ষ্যা নদীতেও সেই স্বচ্ছতা নেই। নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করাই সিটি করপোরেশনের প্রধান দায়িত্ব।”
তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে শহরে ধুলাবালির সমস্যা বেড়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে গঞ্জে আলী খা খালের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, বাকি কাজও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হবে।
ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক সময় ড্রেন পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ভাঙা ফ্রিজ, বালিশ ও তোষক ফেলে রাখা হয়েছে, যা পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করে। এসব বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সকালে ময়লা সংগ্রহ করলেও পরে অনেকেই যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে দেন। এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাই হবে আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আজগর হোসেন, প্র্যাক্টিক্যাল অ্যাকশনের তামান্না, সাবেক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা হাসানসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।