মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ: মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাও অর্জন করছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
নারায়ণগঞ্জের ৫টি উপজেলার ৮৯টি মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা (৬ষ্ঠ পর্যায়) কেন্দ্রের শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হাতে বুধবার (১ এপ্রিল) জেলা প্রশাসক পুরস্কার প্রদান করেন। বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২০০৩ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ইতোমধ্যে ২৩ বছরে পদার্পণ করেছে। এর ফলে সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের শিশুরা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা লাভ করছে। তিনি শিক্ষকদের পরামর্শ দেন, শিশুদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে বর্ণপ্রথা ও জাতভেদাভেদ দূর করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মন্দিরভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম ভবিষ্যতে প্রকল্পের আওতায় না রেখে সরাসরি সরকারিকরণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলীনূর খান এবং ঢাকা বিভাগীয় মাস্টার ট্রেইনার সমীর কুমার বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাফি বিন কবির এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সন্তোষ দাসগুপ্ত (অসিত)। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা সহকারী প্রকল্প পরিচালক শ্যামল কুমার চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মনিটরিং কমিটির সদস্য দিলীপ কুমার মণ্ডল, প্রজন্ম প্রত্যাশ্যা পূজা কমিটির সভাপতি শংকর কুমার সাহা, বলদেব জিউর আখড়ার সভাপতি জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি, অমরনাথ ধাম মন্দিরের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল, বন্দর উপজেলা মনিটরিং কমিটির সদস্য শ্যামল বিশ্বাস, সত্যনারায়ণ জিউর বিগ্রহ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক আনন্দ শেরওয়াগীসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের এ ধরনের পুরস্কার বিতরণী কার্যক্রম শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উৎসাহ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।