মানবতার ফেরিওয়ালা বিমানবন্দর রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ হারুন উর রশিদ

এ আর সুমন:

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন। প্রতিদিন হাজারো যাত্রীর ভিড়ে এই স্টেশনের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও যাত্রীসেবার দায়িত্ব পালন করেন রেলওয়ে পুলিশ সদস্যরা। তাদের মধ্যে ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আলোচনায় এসেছেন বিমানবন্দর রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ হারুন উর রশিদ (পিপিএম)।

২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর তিনি এই ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই নয়, বরং যাত্রীসেবা, মানবিক সহায়তা এবং অপরাধ দমন—সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি অবৈধ যাত্রী পরিবহন, অননুমোদিত মালামাল পরিবহন ও বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে তার কঠোর অবস্থান প্রশংসিত হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, হারুন উর রশিদ নিয়মিতভাবে দিন-রাত স্টেশনে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। যাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, হারিয়ে যাওয়া যাত্রীদের খোঁজ দেওয়া এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এসব কাজে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত রেখেছেন।

নোয়াখালীর কিশোরকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা

তার মানবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল। নোয়াখালী থেকে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে আসা এক কিশোর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে এসে পৌঁছায়। দায়িত্বে থাকা জিআরপি পুলিশ সদস্যরা কিশোরটিকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

পরবর্তীতে তার পরিচয় শনাক্ত করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দীর্ঘ চেষ্টা ও যোগাযোগের পর কিশোরটির মামা স্টেশনে এসে পৌঁছালে তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় ফাঁড়ির ইনচার্জের নির্দেশনায় পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত মানবিকভাবে সম্পন্ন করা হয় বলে জানা যায়।

দুই ডিগ্রী পরীক্ষার্থীকে চিকিৎসা সহায়তা

এর পরদিন, ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দুপুরে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। দুইজন ডিগ্রী পরীক্ষার্থী ভুলবশত চট্টগ্রামগামী একটি চলন্ত ট্রেনে উঠে পড়ে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা আতঙ্কিত হয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে নামতে চেষ্টা করে। এ সময় একজনের হাত ভেঙে যায় এবং অপরজনের পায়ের গোড়ালি মারাত্মকভাবে মচকে যায়।

স্টেশনে দায়িত্বরত রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। ইনচার্জ মোঃ হারুন উর রশিদ তাৎক্ষণিকভাবে নিজ অর্থায়নে আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তাদের দ্রুত কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য।

এই ঘটনায় স্টেশনের সাধারণ যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা তার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

মানবিক নেতৃত্বে অনন্য দৃষ্টান্ত

শুধু দায়িত্ব পালনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে মোঃ হারুন উর রশিদ তার কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্টেশনে এক মানবিক নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করেছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

স্থানীয় রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, তার নেতৃত্বে বিমানবন্দর রেলওয়ে ফাঁড়ির কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব হয়েছে। স্টেশনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমে আসার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানও বৃদ্ধি পেয়েছে।

মানবতার প্রতীক হিসেবে পরিচিতি

কর্তব্যনিষ্ঠা, মানবিকতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে মোঃ হারুন উর রশিদ এখন বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের একজন “মানবতার ফেরিওয়ালা” হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তার এই ব্যতিক্রমী ভূমিকা রেলওয়ে পুলিশ বাহিনীর জন্যও এক ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্টেশন সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন মানবিক কর্মকর্তারা থাকলে যাত্রীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং রেলওয়ে সেবার মান নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *