মোঃ আনজার শাহ:
ইউরোপের সবুজ-শ্যামল ভূমি ইতালিতে বাংলাদেশের লক্ষাধিক সন্তান দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যে স্বপ্নের সেতু গড়ে তুলেছেন, সেই সেতুকে আরও মজবুত, প্রশস্ত ও দীর্ঘস্থায়ী করার সুদৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে এসেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালিকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত, আন্তরিক ও কৌশলগত উন্নয়ন অংশীদার আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই সম্পর্ক আর কেবল কূটনীতির আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি এখন দুই দেশের কোটি মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও ভালোবাসার এক অটুট বন্ধনে পরিণত হয়েছে। নিরাপদ অভিবাসন, দ্বিপাক্ষিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিস্তৃত ক্ষেত্রে এই সম্পর্ককে আরও গভীর, প্রাণবন্ত ও ফলবহ করে তুলতে বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি দৃঢ়কণ্ঠে জানান।
মন্ত্রী গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বলেন, ইতালির মাটিতে কর্মরত লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই-বোন পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে, অসংখ্য কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে যে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রতিনিয়ত দেশে পাঠাচ্ছেন, তা নিছক অর্থের হিসাব নয়; এটি একটি জাতির অদম্য মনোবল ও দেশপ্রেমের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তাঁদের এই অসামান্য ও অতুলনীয় অবদান দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখছে, লাখো পরিবারের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল ও সচল রাখছে। তাই বাংলাদেশ সরকার ইতালির সঙ্গে সম্পর্ককে শুধু কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতেও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও আন্তরিকতার সঙ্গে লালন করে।
মন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, দ্বিপাক্ষিক শ্রমবাজার উন্নয়ন এবং দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও মেধাবী কর্মী প্রেরণের সুযোগ আরও বিস্তৃত করতে গঠিত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ অত্যন্ত সক্রিয়, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। গত বছরের জুলাই মাসে রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই গ্রুপের সফল সভায় উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে একমত হন। বহু প্রতীক্ষিত পরবর্তী সভাটি শীঘ্রই ইতালিতে অনুষ্ঠিত হবে, যা দুই দেশের সহযোগিতার এক নতুন, উজ্জ্বল ও সম্ভাবনাময় অধ্যায়ের দরজা খুলে দেবে বলে মন্ত্রী গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের ঐতিহাসিক বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের অগ্রগতি পর্যালোচনা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক, খোলামেলা ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবমুখী রূপরেখা নির্ধারণে সম্পূর্ণ ঐকমত্য এবং উৎসাহী মনোভাব প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ইউরোপ মহাদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ও সুসংগঠিত প্রবাসী সম্প্রদায়টি ইতালিতে বসবাস করেন। তাঁরা প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়ে জাতীয় অর্থনীতিকে সজীব, সমৃদ্ধ ও গতিশীল রাখছেন। বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে এই আন্তরিক, সুদৃঢ়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ ও মানবিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও বিকশিত, শক্তিশালী, প্রসারিত ও অর্থবহ হয়ে উঠবে—এমন দৃঢ় প্রত্যাশা ও আস্থা সরকার, প্রবাসী সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সকল মহলের।