স্টাফ রিপোর্টার:
নড়াইল সদরে মক্তবে পড়তে যাওয়া শিশুদেরকে যৌন নিপিড়নের অভিযোগে উঠেছে মো.আমিনুল ইসলাম (৫৭) নামের এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শুক্রবার(৮ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী এক শিশুর পিতা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ইমামকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ইমামের মো.আমিনুল ইসলামের বাড়ি সদর উপজেলার রুখালী পূর্বপাড়া এলাকায়। তিনি একই উপজেলার অন্য একটি গ্রামের মসজিদে ইমামতী করেন।
মামলার এজহারে বাদি অভিযোগ করেন, প্রতিদিন ভোর বেলায় ফজরের নামাজের পরে এলাকার ছেলে-মেয়েদের মসজিদের বারান্দায় মক্তবে আরবি পড়ায় ইমাম আমিনুল৷ মক্তবে পড়তে যাওয়া মেয়েদের মাঝে মধ্যেই যৌন নিপিড়িন করতেন তিনি। কিছুদিন আগে বাদীর মেয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। তবে মেয়ে ছোট হওয়া প্রথম বিষয়টি গুরুত্ব দেন নি তারা। এরপর গত মঙ্গলবার (৫ মে) মক্তব ছুটির পর বাদীর মেয়েকে থাকতে বলে অন্যদের ছুটি দিয়ে দেয়। এরপর ওই শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে মসজিদে ভেতর নিয়ে যৌন নিপিড়ন করে ইমাম আমিনুল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ ঘটনার পর থেকে ওই শিশু মক্তবে যেতে আপত্তি জানায়। একপর্যায়ে আজ শুক্রবার (৮মে) মক্তবে না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে পরিবারকে ঘটনা খুলে বলে ওই শিশু। এসময় শিশুটি জানায়, আরো অনেকের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন আমিনুল। পরে শিশুর কথা মতো তার বাবা আরো দুই শিশুর বাড়িতে গেলে তারাও একই কথা বলেন৷ এলাকায় জানাজানি হলে দুপুরের দিকে গ্রামের লোকজন আমিনুলের কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে আমিনুল। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে ফেলেন। পরে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশে খবর দিলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ইমাম আমিনুলকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ ও এলাকাবাসীর সামনে শিশুদেরকে যৌন নিপিড়নের কথা স্বীকার করে আমিনুল। পরে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করা হয়।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ঘটনাস্থলেই অভিযুক্ত আমিনুল চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুদের যৌন নিপীড়নের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তল্লাশি করে তার কাছেই চকলেট পাওয়া যায়। অভিযুক্তকে এক শিশুর পিতার করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তাকে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।