মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মো. সোহেল ওরফে ‘ক্যাডার সোহেল’-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। র্যাব জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকালে র্যাব-১১-এর মিডিয়া কর্মকর্তা উজ্জল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে শুক্রবার (৮ মে) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুর এলাকার আন্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ও আশপাশের এলাকায় সোহেল ও তার বাহিনী সংঘবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। নতুন ভবন নির্মাণ, ব্যবসা পরিচালনা এবং নদীপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখলের মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। র্যাব আরও জানায়, সোহেল বাহিনীর ছত্রছায়ায় এলাকায় মাদক ব্যবসার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল। তার নিয়ন্ত্রণে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেনসিডিলের অবাধ কেনাবেচা চলত বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তার সোহেলের বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানা ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক বলেন, “শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।