কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দ্রুতগামী মারসা পরিবহন ফার্মের দুইটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে সংঘর্ষ বা নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অদক্ষ ও অসতর্ক চালকের কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস দুটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ঘটনাস্থলেই কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রী নিহত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত হন আরও অর্ধশতাধিক যাত্রী, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক পরিবারের চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিটির মহাসচিব কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি বহু আগেই ছয় লেনে উন্নীত হওয়া উচিত ছিল। যদি সময়মতো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হতো, তাহলে এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসত।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু পরিবহন প্রতিষ্ঠানের বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং চালকদের অসচেতনতা এই ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে মারসা পরিবহনের কিছু বাসের অতিরিক্ত গতিতে চলাচল এবং নিয়ম না মানার প্রবণতা সড়ককে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দোষী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।