মোঃ আব্দুল গফুর সিকদার:
ভোলার মনপুরা উপজেলার ২ নম্বর হাজীরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরহাট বাজারে জায়গা-জমি ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে এক বিধবা নারীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা পরিচয়দানকারী মো. হাছানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী উম্মে কুলছুম (পিতা: সালাম চৌকিদার) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন। সম্প্রতি জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় ও পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্ত হাছান ফকিরহাট বাজারের মাঝখানে তাকে প্রকাশ্যে অপমান, জুতা দিয়ে আঘাত এবং শারীরিকভাবে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একজন অসহায় বিধবা নারীকে জনসম্মুখে এভাবে অপমান ও নির্যাতন করা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনা।
স্থানীয়রা আরও জানান, অভিযুক্ত হাছান (পিতা: আলম হাসান) ও মো. কাসেম (পিতা: আব্দুল ওজুদ) দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
এদিকে অভিযুক্তের আয়-উৎস নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, তার দৃশ্যমান আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সামঞ্জস্য নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মো. হাছান দুইটি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রী জোসনা বেগমের ঘরে তিন সন্তান এবং দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি বেগমের ঘরে এক সন্তান রয়েছে। সব মিলিয়ে তার পরিবারে প্রায় ১০ জন সদস্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. হাছান বলেন, “তার সঙ্গে আমার কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন নেই। তবে ওই মহিলা আমাকে জুতা দিয়ে আঘাত করলে পরে আমিও তাকে মারি। গাছ কাটা ও পাওনা টাকা নিয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত।”
এদিকে ভুক্তভোগী উম্মে কুলছুম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয়রাও প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।