মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে তীব্র যানজটে নাজেহাল নারায়ণগঞ্জ শহর। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ বাড়ায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ যানজট, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ব্যবসায়ী, কর্মজীবী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং মডেল গ্রুপ।
চেম্বারের পরিচালক ও “উই আর ভলান্টিয়ার”-এর প্রতিষ্ঠাতা আহমেদুর রহমান তনুর তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার (২০ মে) থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত চাষাড়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২২ জন স্বেচ্ছাসেবক ট্রাফিক পুলিশের সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পথচারী সহায়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা কাজ করবেন।
এর আগেও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের উদ্যোগে একাধিকবার স্বেচ্ছাসেবীরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় মাঠে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার আরও সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, “সামনে ঈদুল আজহা। এই আনন্দঘন সময়ে নগরবাসী যেন যানজটের ভোগান্তিতে না পড়েন, সেজন্য আমরা আবারও এই উদ্যোগ নিয়েছি। এই শহর আমাদের সবার। শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজেরও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু সাময়িক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। দীর্ঘমেয়াদে যানজট নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি। সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হই, তাহলে নারায়ণগঞ্জকে একটি যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, ঈদের আগমুহূর্তে বাড়তি চাপের এই সময়ে স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। একইসঙ্গে এটি নাগরিক সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ী সমাজের সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হবে।