নাছিমা খাতুন সুলতানা:
নেত্রকোনা সদর উপজেলার কাইলাটি ইউনিয়নের বালুয়া কান্দা গ্রামে জমি ও ধান ভাঙানোর মেশিন পরিচালনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত যেভাবে
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বালুয়া কান্দা গ্রামের মৃত রফিক মিয়ার ছেলে মোঃ বাবুল মিয়া তার লোকজন নিয়ে গ্রামের কৃষকের ধান ভাঙার কাজে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় একই গ্রামের মৃত নূরুল ইসলামের ছেলে মোঃ ফজলুর রহমানের সঙ্গে রাস্তার উপর ধান ভাঙার বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ফজলুর রহমানের স্ত্রী মোছাঃ রোকেয়া আক্তার ধান ভাঙার মেশিন মালিক মোঃ বাবুল মিয়াকে চড় মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুহূর্তেই দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পুনরায় সংঘর্ষ ও আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি
প্রাথমিক সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পরবর্তীতে একই ঘটনার জের ধরে বাবুল মিয়া স্থানীয় একটি দোকানে চা পান করতে গেলে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
গুরুতর আহত দুইজন ময়মনসিংহে রেফার্ড
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে বাবুল মিয়া ও তার চাচাতো ভাই একলাছ মিয়া গুরুতরভাবে আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও থানায় লিখিত অভিযোগ
এদিকে ঘটনার পর ফজলুর রহমানের মেয়ে মারিয়া খানম বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বাবুল মিয়াসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য
ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও মেশিন পরিচালনা সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে জানান অনেকে।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, কয়েক বছর ধরে বাদশা মিয়া সহ ছয়জন মিলে ধান ভাঙানোর মেশিন পরিচালনা করে আসছিলেন। তাদের সঙ্গে ফজলুর রহমান পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে দাবি তাদের।
তবে অপর পক্ষের দাবি, বাবুল মিয়া ও তার লোকজন অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে।
প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছে।
স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আহতদের পরিবারের বক্তব্য
আহত বাবুল মিয়া ও একলাছ মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ন্যায়বিচার চান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন। পাশাপাশি তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এবং মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।