স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর মিরপুর পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জানানো হবে।”
খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর সড়কের একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। বিচ্ছিন্ন মাথা শৌচাগার থেকে এবং মরদেহের মূল অংশ খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভাড়া বাসা থেকে পালানোর চেষ্টা
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত সোহেল রানা প্রায় দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার পর তিনি শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থল থেকেই তার স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই পাশের ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
ঘটনার সময় ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
শিশুটির পরিবারে শোকের মাতম
নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে কর্মরত এবং মা পারভীন আক্তার গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে রামিসা ছিল ছোট। বড় বোন রাইসা আক্তার নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।
পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছে।
রামিসার চাচা এ কে এম নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোনের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল রামিসার। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বাসার বাইরে তার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সন্দেহ হয়।
তিনি আরও জানান, পাশের ফ্ল্যাটে নক করলেও দরজা খোলা হয়নি। পরে পুলিশকে জানানো হলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে পুলিশ
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যার প্রকৃত কারণ, পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযুক্তকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
এলাকায় শোক ও ক্ষোভ
এ ঘটনায় পল্লবী এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।