ডিসি ও এসপির কঠোর তদারকিতে শান্তিপূর্ণ ঈদ উদযাপন; মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে বিশেষ অভিযান অব্যাহত

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের কঠোর তদারকি, সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পবিত্র ঈদুল আজহা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় বিশেষ অভিযান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে জেলা পুলিশ, র‍্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

ঈদ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঈদকে কেন্দ্র করে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, ঈদগাহ, বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন, কোরবানির পশুর হাট এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, র‍্যাব, আনসারসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফলে জনদুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদের দিন ও পরবর্তী সময়েও জেলার কোথাও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, বিশৃঙ্খলা কিংবা কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না, সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন।”

তিনি আরও বলেন, বস্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল, সচেতনতামূলক সভা এবং উঠান বৈঠক পরিচালনা করা হচ্ছে। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার ও সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণ তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করলে অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব।

জেলা প্রশাসক জানান, মাদকই অধিকাংশ অপরাধের মূল উৎস। তাই মাদক নির্মূলে সফলতা অর্জন করা গেলে অপরাধমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ার পথ অনেকাংশে সুগম হবে। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে পরিবহন খাত, বাজার এবং নির্মাণ খাতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, “জেলার চিহ্নিত মাদক স্পট ও চাঁদাবাজ চক্রের তালিকা হালনাগাদ করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধে জড়িত কিশোরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের সংশোধনের সুযোগও রাখা হচ্ছে।”

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শুধু অভিযান নয়, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা, নিরাময় ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল-কলেজে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানা যায়, প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, হটলাইন সেবা কার্যকর রাখা, গোপন তথ্যদাতাদের উৎসাহিত করা এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “অপরাধ দমনে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারি দপ্তর বা রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে না। আমরা একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বিনিয়োগবান্ধব নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপন সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং দমনে চলমান কার্যক্রম নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরাপদ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হিসেবে নারায়ণগঞ্জের গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছে। প্রশাসনের এ ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও উন্নত নারায়ণগঞ্জ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *