স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর উত্তরার একটি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ‘স্টার প্লাস’ নামের আবাসিক হোটেলকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। হোটেলটির বিরুদ্ধে আবাসিক পরিবেশ নষ্ট করে অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, আবাসিক হোটেলের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের তুলনায় রাতের বেলায় হোটেলটিতে বহিরাগত নারী-পুরুষের যাতায়াত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে গান-বাজনা, হৈচৈ এবং সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনার কারণে আশপাশের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাসকারী বাসিন্দারা এ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, হোটেলটি দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক হোটেলের পরিচয়ে পরিচালিত হলেও সেখানে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে বলে তাদের সন্দেহ। তাদের দাবি, এসব কারণে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
একজন অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। প্রতিদিন হোটেলের সামনে নানা ধরনের লোকজনের ভিড় দেখা যায়। অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে পরিবার নিয়ে চলাফেরা করতেও অস্বস্তি লাগে। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করুক।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তারা জানান, সন্ধ্যার পর থেকে হোটেলটির সামনে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এতে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আগে এলাকাটি অনেক শান্ত ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে পরিস্থিতি বদলে গেছে। হোটেলটিকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।”
এলাকাবাসীর দাবি, তারা বিভিন্ন সময়ে মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। তারা অবিলম্বে হোটেলটিতে পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। কোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে। যদি কোনো ধরনের অনৈতিক বা বেআইনি কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য হোটেল স্টার প্লাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোটেলের দায়িত্বশীল ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, আবাসিক এলাকায় পরিচালিত হোটেল ও গেস্টহাউসগুলোকে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা ও আইন মেনে পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক। এসব প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক সেবন, অপরাধমূলক কার্যকলাপ কিংবা জনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো ঘটনা ঘটলে তা শুধু স্থানীয় পরিবেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, তারা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করতে চান না; বরং একটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চান। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, আবাসিক এলাকায় হোটেল পরিচালনার ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এসব নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের বেআইনি বা অনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালিত হলে লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা এবং ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।