স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায় একটি মসজিদের একদম পাশঘেঁষে নির্মাণাধীন দুটি বহুতল ভবনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিদ্যমান নির্মাণবিধি ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই ভবন দুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্টদের নজরে আনা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধোলাইপাড়ের ব্যস্ত জনবহুল এলাকায় অবস্থিত মসজিদটির একেবারে গা-ঘেঁষে ভবন দুটির নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে প্রয়োজনীয় সেটব্যাক, নিরাপত্তা দূরত্ব এবং অনুমোদিত নকশার বিভিন্ন শর্ত যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। ফলে ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, আলো-বাতাস চলাচল এবং ধর্মীয় স্থাপনার স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, প্রতিদিন শত শত মুসল্লি ওই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন। কিন্তু মসজিদের একদম পাশেই ভারী নির্মাণকাজ চলায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্মাণসামগ্রী বহন, ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং নির্মাণকাজের কারণে মসজিদে আসা মুসল্লিদের চলাচলেও বিভিন্ন সময় বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালিত হলেও প্রভাবশালী মহলের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগের সুরাহা হয় না। তাদের দাবি, ধোলাইপাড়ের এই দুটি ভবনের ক্ষেত্রেও যথাযথ তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, এলাকাটি রাজউকের জোন-৭-এর আওতাধীন হলেও নির্মাণকাজের বিষয়ে কার্যকর তদারকি চোখে পড়ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত পরিদর্শন করছেন কি না এবং অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা আদৌ যাচাই করা হচ্ছে কিনা।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে কোনো ধর্মীয় স্থাপনার একেবারে পাশঘেঁষে বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, কাঠামোগত ঝুঁকি, পর্যাপ্ত খোলা জায়গা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা নির্মাণাধীন ভবন দুটির অনুমোদিত নকশা, জমির কাগজপত্র, নির্মাণ অনুমতি এবং রাজউকের সব শর্ত যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে ভবন মালিকপক্ষ এবং রাজউকের জোন-৭-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।