মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জে জেলা পর্যায়ের সেনসিটাইজেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে জেলা পর্যায়ে একটি সেনসিটাইজেশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন ২০২৬) সকাল ১১টা ১৫ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), গণমাধ্যমকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।

জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আ ফ ম মশিউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইব্রাহিম হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সিফাত উদ্দিন, ব্র্যাকের সেন্ট্রাল ম্যানেজার সুরমিয়ারা হোসেনসহ ব্র্যাকের প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি এবং জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, মানব পাচার একটি বহুমাত্রিক অপরাধ। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই অপরাধ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে কাজ করা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, খুব শিগগিরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) সঙ্গে সভা করে মানব পাচার প্রতিরোধে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ব্র্যাকের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলো যেভাবে মানব পাচার রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে, সেই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচতলায় প্রবাসীদের জন্য একটি হেল্প ডেস্ক চালু রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু, মরদেহ দেশে আনা, জরুরি প্রশাসনিক সহায়তা কিংবা প্রবাসসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে এই হেল্প ডেস্ক সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইব্রাহিম হোসেন বৈধ উপায়ে বিদেশ গমনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অনেক মানুষ অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে প্রতারণা ও মানব পাচারের শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ও আড়াইহাজার এলাকায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষের বসবাস তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঝুঁকিও বেশি। তাই প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিক সমাজের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, বৈধ অভিবাসন সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার এবং দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সেনসিটাইজেশন কর্মশালা নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে মানব পাচার ও চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে এবং জেলা পর্যায়ে একটি কার্যকর সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *