মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নাগরিক সেবাকে আরও জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা সরাসরি শুনে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রতি বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়মিত গণশুনানির আয়োজন করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কমিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার হচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান কবির। গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নারী-পুরুষ, বয়োজ্যেষ্ঠ, অসহায় ও ভুক্তভোগী মানুষ তাদের নানা ধরনের সমস্যা, অভিযোগ ও আবেদন জেলা প্রশাসকের সামনে তুলে ধরেন।
গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে বেশ কিছু সেবাগ্রহীতার সঙ্গে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরাসরি কথা বলেছি। তাদের বক্তব্য শুনেছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। জেলা প্রশাসনের অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যক্রম সপ্তাহজুড়েই চলমান থাকে। তবে এই নির্দিষ্ট দুই ঘণ্টা আমি শুধু সাধারণ মানুষের কথা শোনার জন্য বরাদ্দ রেখেছি।”
তিনি আরও বলেন, “জেলা প্রশাসনের দরজা জনগণের জন্য সব সময় খোলা। মানুষের সমস্যার কথা শুনে আইন, নীতিমালা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করাই আমাদের দায়িত্ব।”
গণশুনানির পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আন্তরিক ও মানবিক পরিবেশ। প্রতিটি আবেদনকারীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক। অভিযোগকারীদের পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সংকট, চিকিৎসাজনিত সমস্যা, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, সামাজিক জটিলতা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ সময় তিনি বলেন, “একটি আবেদনপত্রের পেছনে থাকে একটি পরিবারের বেদনা। কেউ সরকারি সেবা না পেয়ে অভিযোগ করতে আসে, কেউ চিকিৎসার জন্য সহায়তা চায়, কেউ সন্তানের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে আসে, আবার কেউ জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। বিভিন্ন ভুক্তভোগী পরিবার তাদের সমস্যার সমাধানের আশায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসে। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন মানুষের আস্থার জায়গা। সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা জেলা প্রশাসনের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি নীতিমালার আলোকে প্রকৃত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। মানুষের কষ্ট মনোযোগ দিয়ে শোনা, তাদের সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং সম্ভব হলে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করাও জনসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
গণশুনানিতে অংশ নেওয়া সেবাগ্রহীতারা জেলা প্রশাসকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরাসরি জেলা প্রশাসকের কাছে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরার সুযোগ পাওয়ায় তারা আশাবাদী হয়েছেন। অনেকেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সহায়তা পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা, সেবার মানোন্নয়ন, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যেই এই গণশুনানি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
গণশুনানিতে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা, ভুক্তভোগী পরিবার এবং সেবাগ্রহীতারা উপস্থিত ছিলেন।