বনভূমি হুমকিতে: গাজীপুরে দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের প্রতিযোগিতা

কাজী দেলোয়ার হোসেন:

গাজীপুর জেলার মোট আয়তন প্রায় ১ হাজার ৮০৬ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৭৩ দশমিক ৪২ বর্গকিলোমিটার বা ৬৭ হাজার ৫৬৩ একর, যা জেলার মোট আয়তনের প্রায় ১৫ শতাংশ। অথচ এই বনভূমির একটি বড় অংশ দিন দিন দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে সংকুচিত হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কালিয়াকৈর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বিশ্বাসপাড়ার বাসিন্দা মো. জিয়া (আনসার সদস্য) বনের জায়গায় স্থায়ী বাড়ি নির্মাণ করছেন। বিষয়টি ডেপুটি রেঞ্জার মো. ইকবাল হোসেনকে অবগত করলে তিনি “দেখছি” বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এ সময়ের মধ্যেই বাড়ি নির্মাণ সম্পন্ন হয়ে যায়। শুধু একটি নয়, এ ধরনের একাধিক অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অনুসন্ধানে জানা যায়, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব বাড়ি নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়। শুধু বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীই নয়, বনজমি বাণিজ্যের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীরাও জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাজীপুরের বনাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বনভূমির জমি দখল করে কোথাও বহুতল ভবন, কোথাও টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রথমে ছোট পরিসরে নির্মাণকাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আশপাশের জমিও দখলে নেওয়া হচ্ছে। ফলে বনভূমির প্রকৃত সীমানা সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ পাচ্ছেন। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর দখলদাররা নিজেদের ইচ্ছামতো আরও এলাকা দখলে নিচ্ছেন বলেও দাবি স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের অবগত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যেখানে বনায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে বিনা অনুমতিতে বনভূমিতে প্রবেশও সীমিত করা হয়, সেখানে কীভাবে বনাঞ্চলের ভেতরে বিভিন্ন নকশার ঘরবাড়ি ও স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে? বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, বনভূমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ না হলে গাজীপুরের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বনভূমি উদ্ধার করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *