মাত্র ২০ দিনে চীনে ৬০০ কোটি ডলারের তেল রপ্তানি করেছে ইরান: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে চীনের কাছে প্রায় ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি করেছে ইরান। এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে)

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির পর ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে ইরান দ্রুতগতিতে তেল রপ্তানি বাড়ায় এবং প্রায় ২০টি ট্যাংকার জাহাজে মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূল ব্যবহার করে চীনের বিভিন্ন বন্দরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পৌঁছে দেয়।

ডব্লিউএসজের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ জুন থেকে ৩০ জুন—মাত্র ১৩ দিনের মধ্যে ইরান চীনে প্রায় ৭ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পাঠিয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে যার মূল্য প্রায় ৬০০ কোটি ডলার

চীনই ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা

১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তী কয়েক দশকে বিভিন্ন সময়ে সেই নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হয়।

তবে এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখে চীন। বর্তমানে ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কিনে থাকে দেশটি, যা চীনকে ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতায় পরিণত করেছে।

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে বিশেষ কৌশল

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকাকালে ইরানি ট্যাংকারগুলো দক্ষিণ চীন সাগরের ইস্টার্ন আউটার পোর্ট লিমিটস (ইওপিএল) এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষায় থাকা চীনা ট্যাংকারে জাহাজ-থেকে-জাহাজে (Ship-to-Ship Transfer) পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল স্থানান্তর করা হয়। এরপর চীনা পতাকাবাহী ট্যাংকারগুলো সেই তেল দেশের বিভিন্ন বন্দরে নিয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছর ধরেই এই পদ্ধতিতে চীনের কাছে তেল রপ্তানি করে আসছে ইরান।

আবারও নিষেধাজ্ঞা ও বন্দর অবরোধ

তবে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ার পর ৭ জুলাই ইরানের তেল রপ্তানির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপরও অবরোধ জারি করা হয়।

এর ফলে বর্তমানে ইরানের কোনো ট্যাংকার বন্দর ছেড়ে যেতে পারছে না। আবার যেসব জাহাজ আগে থেকেই সমুদ্রে অবস্থান করছিল, সেগুলোরও বন্দরে ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে ইরানের তেল রপ্তানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ফার্স্টপোস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *