স্পোর্টস ডেস্ক ::
প্রায় দেড় মাসের উত্তেজনা ও রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে পর্দা নেমেছে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। বিশ্বের সেরা ৪৮ দলের অংশ হয়ে ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলার টুর্নামেন্টে জায়গা পেলেও তাদের প্রায় সবাই অন্তত একবার হলেও মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন।
তবে ব্যতিক্রম ছিলেন কয়েকজন। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে পুরো সময় স্কোয়াডে থেকেও এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামতে পারেননি এমন কয়েকজন তারকা ফুটবলার রয়েছেন। ইনজুরি, কোচের কৌশল কিংবা দলে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে তাদের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে শুধুই বেঞ্চে বসে।
নিচে এমনই ১০ জন দুর্ভাগা ফুটবলারের পরিচয় তুলে ধরা হলো—
এনগোলো কাঁতে (ফ্রান্স)
২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম নায়ক এনগোলো কাঁতে এবারও ফ্রান্স দলে ছিলেন। তবে ৩৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারকে কোচ দিদিয়ের দেশম এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামাননি। এমনকি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি।
কোবি মাইনু (ইংল্যান্ড)
২০২৪ ইউরোর ফাইনালে ইংল্যান্ডের হয়ে শুরুর একাদশে থাকা কোবি মাইনুর জন্য বিশ্বকাপটা ছিল হতাশার। পুরো টুর্নামেন্ট বেঞ্চেই কাটিয়েছেন তিনি। অসুস্থতার কারণে শেষ ম্যাচটিও খেলতে পারেননি। ফলে ইংল্যান্ডের একমাত্র আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে কোনো মিনিট না খেলেই বিশ্বকাপ শেষ করেন।
ভিক্টর মুনিয়োজ (স্পেন)
লিভারপুলের নতুন ফুটবলার ভিক্টর মুনিয়োজ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের সদস্য ছিলেন। তবে ইনজুরির কারণে শুরুর কয়েকটি ম্যাচ মিস করার পর আর মাঠে নামার সুযোগ পাননি।
ডেভিড রায়া (স্পেন)
প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন গ্লাভজয়ী গোলরক্ষক ডেভিড রায়াও পুরো টুর্নামেন্ট বেঞ্চে বসেই কাটিয়েছেন। উনাই সিমনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে স্পেনের জার্সিতে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার।
জেমস ট্রাফোর্ড (ইংল্যান্ড)
ম্যানচেস্টার সিটির এই তরুণ গোলরক্ষকও বিশ্বকাপে সুযোগ পাননি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জর্ডান পিকফোর্ডের বদলে ডিন হেন্ডারসন খেললেও ট্রাফোর্ডের অভিষেক আর হয়নি।
ব্রেমার (ব্রাজিল)
জুভেন্টাসের অভিজ্ঞ সেন্টারব্যাক ব্রেমারের জন্য মূল একাদশে সুযোগ পাওয়াটা কঠিনই ছিল। গ্যাব্রিয়েল ও মারকুইনহোসের জুটি ভাঙতে না পারায় পুরো বিশ্বকাপ বেঞ্চেই কাটাতে হয়েছে তাকে।
রোনাল্ড আরাউহো (উরুগুয়ে)
ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টের শুরুতে ছিটকে পড়েন বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডার। শেষ পর্যন্ত সুস্থ হলেও মাঠে নামার সুযোগ পাননি। অনেকের মতে, তার অনুপস্থিতিই উরুগুয়ের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের অন্যতম কারণ।
আলেজান্দ্রো গ্রিমালদো (স্পেন)
দারুণ একটি ক্লাব মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপে এলেও স্পেনের লেফট-ব্যাকে মার্ক কুকুরেয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে গ্রিমালদোকে পুরো টুর্নামেন্ট বেঞ্চেই থাকতে হয়েছে।
গনসালো ইনাসিও (পর্তুগাল)
পর্তুগালের রক্ষণভাগে রুবেন দিয়াস ও রেনাতো ভেইগার শক্ত অবস্থানের কারণে গনসালো ইনাসিওর মাঠে নামার সুযোগ হয়নি। শেষ পর্যন্ত এক মিনিটও না খেলেই বিশ্বকাপ শেষ করেন তিনি।
ম্যাটস উইফার (নেদারল্যান্ডস)
জুরিয়েন টিম্বারের ইনজুরিতে সুযোগ পাওয়ার আশা করেছিলেন ম্যাটস উইফার। কিন্তু ডেনজেল ডামফ্রিস পুরো টুর্নামেন্টে রাইট-ব্যাকে প্রতিটি মিনিট খেলায় তার আর মাঠে নামা হয়নি।
বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে অংশ নেওয়াই যে কোনো ফুটবলারের জন্য গর্বের বিষয়। তবে স্কোয়াডে থেকেও এক মিনিটের জন্য মাঠে নামতে না পারা নিঃসন্দেহে এসব ফুটবলারের জন্য সবচেয়ে বড় আক্ষেপ হয়ে থাকবে।
সূত্র: এফএইচএম