ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন

মো. ফজলুল হক:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে মুড়ি উৎপাদন এবং মানুষের খাবারের লবণের পরিবর্তে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড লবণ ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার (২৬ জুলাই ২০২৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিসিক শিল্পনগরীতে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ অভিযানে এসব অনিয়মের সন্ধান পাওয়া যায়। অভিযানে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর বিভিন্ন বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান তিনটিকে তাৎক্ষণিকভাবে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিসিক শিল্পনগরীর বিভিন্ন মুড়ি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনার সময় অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের বিষয়টি ধরা পড়ে। পাশাপাশি মুড়ি তৈরিতে মানুষের খাবারের উপযোগী লবণের পরিবর্তে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রেড লবণ ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া যায়।

অভিযানে মেসার্স ভাই ভাই ফুড ইন্ডাস্ট্রিজকে ৩ লাখ টাকা, মেসার্স বাবুল চিড়া-মুড়ি ইন্ডাস্ট্রিজকে ৩ লাখ টাকা এবং মেসার্স আমানত ফুড ইন্ডাস্ট্রিজকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তিন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযান পরিচালনাকারীরা জানান, খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা এবং মানুষের জন্য নিরাপদ ও অনুমোদিত উপাদান ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে এসব নিয়মের ব্যত্যয় পাওয়া যায়। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যে ব্যবহারের অনুপযোগী শিল্পকারখানার লবণ ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি খাদ্যপণ্যে অনুমোদিত উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ভোক্তাদেরও খাদ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্যাকেটজাত মুড়ি ও চিড়া কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে থাকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য, উপাদান, মেয়াদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন বা লোগো যাচাই করে পণ্য কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে শুধু প্রশাসনের অভিযান নয়, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা এবং ভোক্তাদের সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যে ভেজাল, অনিরাপদ উপাদান ব্যবহার কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *