Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
নান্দাইলে সাফ-কাওলা জমি বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

নান্দাইলে সাফ-কাওলা জমি বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ

নাছিমা খাতুন সুলতানা:

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের মাদারীনগর গ্রামে সাফ-কাওলা সূত্রে জমি ক্রয়ের পরও প্রায় ২০ বছর ধরে তা ভোগদখলে নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন ফিরোজা আক্তার নামে এক নারী। তাঁর দাবি, জমির দলিল সম্পাদনের পরও বিভিন্ন অজুহাতে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জমি বুঝে পাওয়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

ভুক্তভোগী ফিরোজা আক্তার মাদারীনগর গ্রামের মৃত মো. মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ২০০৫ সালে একই গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের কাছ থেকে তিনি সাফ-কাওলা মূলে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর দলিল সম্পাদন করা হলেও বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তী সময়ে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর জমি মেপে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফিরোজা আক্তারের ভাষ্য, জমি ক্রয়ের পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তিনি তাঁর ক্রয়কৃত জমির দখল বুঝে পাননি। এভাবে প্রায় দুই দশক পার হয়ে গেলেও জমিটি বুঝে না পাওয়ায় তিনি নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী ফিরোজা আক্তার বলেন, তাঁর স্বামী মো. হেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন বিদেশে থাকায় এবং জমির বিক্রেতা মৃত্যুবরণ করায় তাঁদের পারিবারিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জমিটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে তিনি মনে করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তা করা হয়নি।

জমি উদ্ধারের জন্য ফিরোজা আক্তার বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দ্বারস্থ হন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার জন্য একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে সালিশে উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।

গত ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে স্থানীয় মাতব্বররা পুনরায় বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার উদ্দেশ্যে বসার উদ্যোগ নেন। তবে ওই সময়ও মো. মাসুদ মিয়া উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে জমির মালিকানা দাবি করা ফিরোজা আক্তার তাঁর লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে সাফ-কাওলা সূত্রে ক্রয় করা জমিতে বাঁশের বেড়া দেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ফিরোজা আক্তারের অভিযোগ, জমি বুঝিয়ে না দেওয়ার উদ্দেশ্যে মো. মাসুদ মিয়া বাদী হয়ে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগে ফিরোজা আক্তারের স্বামী মো. হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ বছর আগে ফিরোজা আক্তার মো. মাসুদ মিয়ার বাবা মৃত নিজাম উদ্দিনের কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেছিলেন। তবে বিভিন্ন কারণে জমিটি তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও জমিটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অনেকে জানান।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা, হুমকি-ধমকি ও নানা ধরনের চাপ সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং মামলা দিয়ে ফাঁসানো, ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া, এলাকা থেকে উচ্ছেদ কিংবা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযোগের কারণে বর্তমানে ফিরোজা আক্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

অন্যদিকে জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে ফিরোজা আক্তারের স্বামী মো. হেলাল উদ্দিনও নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ওই অভিযোগে প্রতিপক্ষ মো. মাসুদ মিয়াসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর বা বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ অবস্থায় জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল সংক্রান্ত বিষয়টি যাচাই করে আইনানুগভাবে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ফিরোজা আক্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে তাঁরা ময়মনসিংহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপার এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিরোধের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চান তাঁরা।

প্রকাশ থাকে যে, জমি সংক্রান্ত এই বিরোধের বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য, দলিলপত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ ঘটনায় যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *