আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। কৌশলগত এই নৌপথে জাহাজ চলাচলের জন্য বিকল্প রুটের ভৌগোলিক অবস্থান নির্ধারণে ইরান ও ওমান একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে তেহরান। বর্তমানে যৌথ ঘোষণার খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ না হলে দুই দেশ যৌথভাবে বিষয়টি ঘোষণা করবে। তাঁর দাবি, পুরো আলোচনা ছিল দ্বিপাক্ষিক এবং এতে অন্য কোনো দেশের অংশগ্রহণ ছিল না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি?
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথগুলোর একটি। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো উত্তেজনা বা বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিরাপত্তা সংকট এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান–ওমানের সমঝোতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানের অবস্থান
তেহরানের দাবি, বিকল্প নৌপথের বিষয়ে সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনই স্বাভাবিক হবে না। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধই উত্তেজনার অন্যতম কারণ। তাই কেবল নতুন নৌপথ নির্ধারণ করলেই সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের অবস্থান ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণ বা অতিরিক্ত শর্ত আরোপ গ্রহণযোগ্য নয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র চায় এই নৌপথ আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের নীতিমালা অনুযায়ী সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক এবং কোনো পক্ষ অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বা ফি আরোপ করতে না পারে।
এখন কী হতে পারে?
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরান ও ওমানের মধ্যে যৌথ ঘোষণার খসড়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি কার্যকর হওয়ার আগে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমোদনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদারদের অবস্থানও ভবিষ্যৎ বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমঝোতাটি বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও স্বাভাবিক হতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক আস্থা এবং আঞ্চলিক বিরোধের মতো বিষয়গুলো এখনো পুরোপুরি সমাধান হয়নি। ফলে পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।