“ঢাকায় বরুড়াবাসীর মিলনমেলা, নয়াপল্টনের ঠিকানা যেন সবার ঘর” :সম্প্রচারণ সচিব শাহ আলম

 

মোঃআনজার শাহ:

ইট-পাথরের নগর ঢাকায় যখন আপনজনের দেখা মেলে, তখন মুহূর্তেই দূর হয়ে যায় শহরের কোলাহল। ফিরে আসে শেকড়ের টান, মাটির গন্ধ আর নিজের মানুষের উষ্ণতা এমনই আবেগঘন কথায় অনুষ্ঠান শুরু করেন তথ্য ও সম্প্রসারণ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি শাহ আলম। ঢাকায় বসবাসরত বরুড়াবাসীর জন্য তেমনই এক আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা-এর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম), নতুন কার্যকরী পরিষদের অভিষেক ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠান।

রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দল-মত ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বরুড়ার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হবে সংগঠনের মূল লক্ষ্য। ৩১ বছরের পথচলায় অর্জিত ঐতিহ্য, গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের ধারা, স্থায়ী ঠিকানা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দুর্যোগকালীন মানবিক কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

সভাপতি শাহ আলম বলেন, ঢাকায় বসবাসরত বরুড়াবাসীর জন্য এই দিনটি এক অনন্য আনন্দের দিন। জন্মভূমি থেকে বহু দূরে থেকেও নিজের এলাকার মানুষ, প্রতিবেশী ও গ্রামের স্বজনদের একসঙ্গে পাওয়া যেন নগরজীবনের মাঝে ঈদের আনন্দের মতো। তিনি বলেন, চাকরি, ব্যবসা কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বরুড়ার অসংখ্য মানুষ ঢাকায় বসবাস করেন, আর তাঁদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে পরস্পরের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার একটি শক্তিশালী ঠিকানা হিসেবে গড়ে উঠেছে এই সমিতি।

১৯৯৫ থেকে ৩১ বছরের গৌরবময় পথচলা:

বক্তারা জানান, বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। দীর্ঘ এই পথচলায় যাঁরা শ্রম, অর্থ, সময়, মেধা ও পরামর্শ দিয়ে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়েছেন, তাঁদের গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মবিন ও ইঞ্জিনিয়ার মান সাহেবসহ সংগঠনের প্রয়াত সদস্যদের, এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।

গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত:

সমিতির অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বক্তারা তুলে ধরেন এর নিয়মতান্ত্রিক নেতৃত্ব পরিবর্তনের সংস্কৃতিকে। প্রায় দেড় দশক ধরে সংগঠনটি নির্বাচনের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন ও দায়িত্ব হস্তান্তরের একটি গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান তাঁরা।

নয়াপল্টনে স্থায়ী ঠিকানা,”বরুড়ার সবার ঘর”:

অনুষ্ঠানে সবচেয়ে আবেগঘনভাবে উঠে আসে সংগঠনের স্থায়ী ঠিকানা অর্জনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। বক্তারা জানান, দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নয়াপল্টনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বরুড়া জনকল্যাণ সমিতির স্থায়ী ঠিকানা। সভাপতি শাহ আলম বলেন, প্রত্যেকের নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট থাকলেও নয়াপল্টনের এই ঠিকানা ভিন্ন এটি কোনো ব্যক্তির নয়, এটি বরুড়ার সবার ঘর। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিদায়ী কমিটির সভাপতি মৃণাল কিশোর মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

বৃত্তি থেকে চিকিৎসা, মানবিকতার দীর্ঘ পথ:

শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান, চিকিৎসা শিবির ও চক্ষু শিবিরসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি নিয়মিত পরিচালনা করছে সংগঠনটি। বন্যা, শীত কিংবা খরার মতো যেকোনো দুর্যোগে বরুড়ার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে সমিতি, এবং ভবিষ্যতে এসব কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

নতুন নেতৃত্বে নতুন স্বপ্ন:

জানানো হয়, ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি নির্বাচিত হয় এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন মিজানুর রহমান, সহসভাপতি আনিসুর রহমান জাহিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন। এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. নুরুল আমিন, মো. সিদ্দিকুর রহমান, মো. মঞ্জুর হোসেন পাটোয়ারী, আলী আকবরসহ অনেকে।

“আনন্দের দিনে দাবি নয়, ভালোবাসাই মুখ্য”:

সভাপতি শাহ আলম বলেন, বরুড়ার বিভিন্ন উন্নয়নসংক্রান্ত দাবি ইতোমধ্যে প্রধান অতিথি গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এজিএম ও অভিষেকের মতো আনন্দঘন দিনে নতুন দাবি দিয়ে অনুষ্ঠানকে ভারাক্রান্ত না করে বরং আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়াকেই গুরুত্ব দেন তাঁরা।

৩১ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বরুড়া জনকল্যাণ সমিতি যেন কেবল একটি সামাজিক সংগঠন নয়, বরং ঢাকায় ছড়িয়ে থাকা বরুড়ার মানুষের একটি ঠিকানা, একটি আশ্রয় এবং শেকড়ের সঙ্গে ভালোবাসার এক অদৃশ্য সেতু হয়ে উঠেছে অনুষ্ঠানের আবেগঘন পরিবেশে বারবার উচ্চারিত হয়েছে সেই প্রত্যয়ই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *