জেলা প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে তার দুঃখ প্রকাশের পরও পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বহাল রাখার কথা জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে, শনিবার বিকেল ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির উদ্যোগে সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
তবে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) মধ্যরাতে হাসনাত আবদুল্লাহর ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা হাসনাত আবদুল্লাহকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে এনসিপির অনুষ্ঠান প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তারা।
এরপর শনিবার বিকেল ৩টায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষণা করে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
হাসনাত আবদুল্লাহ দুঃখ প্রকাশ করায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি এখনো বহাল আছে। আমরা পরামর্শ করছি। যেহেতু কর্মসূচি দিয়েছি, অবস্থান করব ইনশাআল্লাহ।’
এদিকে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানিয়েছেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এনসিপিকে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানের কথা জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক সমাবেশ হবে—এমন তথ্য তাদের জানানো হয়নি।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নয়। তাই এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি আমরা দিতে পারি না। আর মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির বিষয়েও আমরা কিছু জানি না। শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তন ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এ বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি।’
এদিকে হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্য নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ কর্মসূচি বহাল রাখার ঘোষণা দেওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।