স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার ওএমএস (খোলাবাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি) কার্যক্রমের তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। ডি-নাইন এরিয়ায় ওএমএসের ট্রাক ও দোকান সেল কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা আতিয়া হক মুক্তা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেলেও মাঠপর্যায়ে তার দায়িত্ব পালনের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ সকাল থেকে ডি-নাইন এরিয়ার বিভিন্ন ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন আমাদের প্রতিনিধি। এ সময় ইব্রাহিমপুর বাজার এলাকায় ট্রাক সেল এবং উত্তর কাফরুল এলাকায় দোকান সেল কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।
জানা গেছে, ইব্রাহিমপুর বাজার এলাকায় ট্রাক সেলের ডিলার মোহাম্মদ আরিফ হোসেন সকালে চাল ও আটা বিক্রি শুরু করেন। অন্যদিকে উত্তর কাফরুল এলাকায় দোকান সেলের দায়িত্বে ছিলেন ডিলার মুমিন। ওএমএসের চাল ও আটা বিক্রির সময় তদারককারী হিসেবে আতিয়া হক মুক্তার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিলার আরিফ হোসেন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ওএমএসের পণ্য বিক্রি করবেন। বিক্রয় কার্যক্রমে সরকারি বরাদ্দের চাল ও আটা সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কি না, নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ মানুষ পণ্য পাচ্ছেন কি না এবং বিক্রির হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় তদারক করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
এ বিষয়ে তদারককারী আতিয়া হক মুক্তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তাদের একটি অনলাইন মিটিং চলছে এবং প্রতিবেদককে সংশ্লিষ্ট পয়েন্টে আসতে বলেন। তিনি দাবি করেন, তিনি সততার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধির পর্যবেক্ষণে তার বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে ওএমএসের চাল ও আটা বিতরণে অনিয়ম বা পণ্য আত্মসাতের সুযোগ বন্ধ করতে বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে কার্যকর নজরদারি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ট্রাক সেল ও দোকান সেলের সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে সেখানে কতজন ক্রেতা পণ্য কিনেছেন, কত পরিমাণ চাল ও আটা বিক্রি হয়েছে, কত পরিমাণ পণ্য অবিক্রীত রয়েছে এবং দিনের শেষে বরাদ্দের সঙ্গে বিক্রির হিসাব মিলছে কি না—এসব বিষয় সহজেই যাচাই করা সম্ভব।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলারদের কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি করা হচ্ছে না। এমনকি তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা মাঠে উপস্থিত না থেকেও দায়িত্ব পালন দেখাচ্ছেন—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় পর্যায়ে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কর্মস্থলে উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ওএমএসের মতো নিম্নআয়ের মানুষের জন্য পরিচালিত সরকারি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে তদারকির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি বরাদ্দের চাল ও আটা সাধারণ মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাচ্ছে কি না, ডিলাররা নির্ধারিত নিয়ম মেনে পণ্য বিক্রি করছেন কি না এবং তদারককারী কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না—এসব বিষয়ে কার্যকর তদন্তের দাবি উঠেছে।