Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ? - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

কেন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ?

মো: ইসলাম উদ্দিন তালুকদার::
একসময় বিশ্বের অন্যতম বড় ইলিশ উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল বাংলাদেশ। দেশের নদী, মোহনা ও সাগরজুড়ে ইলিশের প্রাচুর্য ছিল। প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রপ্তানি নিয়ে আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতাও দেখা যেত। কিন্তু এবার চিত্রটা যেন অনেকটাই উল্টো। বাংলাদেশের বাজারে ইলিশের সংকট ও তুলনামূলক বেশি দামের কারণে প্রতিবেশী ভারত থেকেই বিপুল পরিমাণ ইলিশ আমদানি করছে বাংলাদেশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস—জুলাই ও আগস্টে—বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি বা ৩৫২ টনের বেশি ইলিশ আমদানি করেছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান। আমদানি করা এসব ইলিশের মূল্য প্রায় সাত কোটি টাকা। যশোর জেলা মৎস্য বিভাগ ও বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তবে পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়ীদের হিসাবে, গত প্রায় দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ গেছে। তাদের দাবি, এর বড় অংশই এসেছে ভারতের গুজরাট থেকে। ফলে সরকারি আমদানি হিসাব এবং ব্যবসায়ীদের দেওয়া মোট রপ্তানির হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

কেন ভারত থেকে ইলিশ আমদানি?

বাংলাদেশে ইলিশের চাহিদা সবসময়ই বেশি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় ইলিশের দামও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশ কাস্টমস শুল্ক, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ করার পরও দেশীয় বাজারের তুলনায় তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ব্যবসায়ীদের কাছে আমদানি লাভজনক হয়ে উঠেছে।

ইলিশ আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. কামরুজ্জামানের ভাষ্য, বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে ইলিশ আনছেন। সরকারের অনুমতি নিয়েই তারা এই আমদানি করছেন। ব্যবসায়িকভাবে লাভের সুযোগ থাকায় আমদানিকারকরাও এতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন জানিয়েছেন, মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই কিছু প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ইলিশ আমদানি করছে। তবে ঠিক কী কারণে ব্যবসায়ীরা আমদানিতে বেশি আগ্রহী হয়েছেন, সে বিষয়ে তাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।

তার ভাষায়, ভারতের কোনো অঞ্চলে ইলিশের সরবরাহ বেশি হওয়াও এর একটি কারণ হতে পারে। তবে আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকায় নিয়ম মেনেই মাছ আমদানির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকও জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার মতে, ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ নয় এবং বিভিন্ন সময়ে সীমিত পরিমাণে এ ধরনের আমদানি হয়েছে।

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমছে কেন?

ভারত থেকে ইলিশ আমদানির খবর সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—ইলিশের দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশকে কেন এখন ভারত থেকে ইলিশ কিনতে হচ্ছে?

সংশ্লিষ্ট গবেষক ও কর্মকর্তাদের মতে, এর পেছনে বাংলাদেশের জলসীমায় ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নদীদূষণ, জাটকা নিধন, কারেন্ট জালের ব্যবহার, অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এবং ইলিশের চলাচলের পথ বা মাইগ্রেটরি রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো বিভিন্ন কারণে ইলিশের স্বাভাবিক প্রজনন ও বিচরণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান মনে করেন, সাগর থেকে নদীতে ইলিশের আসা-যাওয়ার পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং মাছ ধরার বিভিন্ন ক্ষতিকর পদ্ধতি ইলিশের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি নদী ও জলাশয়ের পরিবেশ দূষণও ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।

বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় ইলিশের উৎপাদন বাড়লেও গত কয়েক বছর ধরে উৎপাদন কমার পাশাপাশি মাছের গড় ওজন কমে আসার বিষয়টি নিয়েও গবেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টনে। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন আরও কমে প্রায় ৫ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টনে নেমে আসে।

ফলে উৎপাদন কমার এই ধারাবাহিকতা বাজারে সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

ইলিশ উৎপাদনে শত শত কোটি টাকার প্রকল্প, তবু সংকট কেন?

ইলিশের উৎপাদন বাড়ানো ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে কয়েক বছর আগে সরকার বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। কিন্তু সেই প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক জানিয়েছেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না কিংবা বরাদ্দের অর্থ কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

তার মতে, দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত না করলে দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান করা কঠিন হবে।

গুজরাটের ইলিশ কেন বাংলাদেশে জনপ্রিয় হচ্ছে?

ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা ইলিশের বড় একটি অংশ ভারতের গুজরাট রাজ্য থেকে আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদের দাবি, গত প্রায় দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। তার দাবি, রপ্তানি হওয়া মাছের প্রায় পুরোটাই গুজরাট থেকে সংগ্রহ করা।

ভারতের গুজরাটের ভারুচসহ বিভিন্ন এলাকায় ইলিশের সরবরাহ ভালো হওয়ায় সেখানে তুলনামূলক কম দামে মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। গুজরাটের ইলিশের আকার তুলনামূলক বড় এবং অনেক মাছেই ডিম পাওয়া যাচ্ছে—এ কারণেও বাংলাদেশের বাজারে এসব মাছের চাহিদা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দাবি।

বাংলাদেশে ইলিশের পাশাপাশি ইলিশের ডিমেরও চাহিদা রয়েছে। ফলে ডিমওয়ালা বড় আকারের ইলিশ ব্যবসায়ীদের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গুজরাটের ভারুচ এলাকা থেকে মাছ পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি বাজারে আসে। সেখান থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আবার কিছু মাছ সরাসরি পরিবহনের মাধ্যমেও সীমান্তে পৌঁছায়।

ভারতের স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গুজরাটের ভাদভূত ও আশপাশের এলাকায় নর্মদা নদী সাগরে মিশেছে। ওই অঞ্চলে ইলিশ ধরা পড়ার পরিমাণও ভালো। ফলে সেখানকার উদ্বৃত্ত মাছ পশ্চিমবঙ্গের বাজার হয়ে বাংলাদেশে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় ইলিশের দাম তুলনামূলক কম কেন?

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশের ক্রয়মূল্য তুলনামূলক কম। আমদানির পর কাস্টমস শুল্ক, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হলেও দেশীয় বাজারে একই ওজনের ইলিশের তুলনায় মোট খরচ কম পড়ে।

এ কারণে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ ভারতীয় ইলিশ আমদানিতে আগ্রহী হচ্ছেন।

একজন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, গত দুই মাসে দেশীয় বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় আমদানি করা ইলিশ বিশেষ করে যশোর অঞ্চলের বাজারে দ্রুত বিক্রি হচ্ছে।

তবে আমদানি করা ইলিশকে দেশীয় ইলিশ হিসেবে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে। ক্রেতাদের একটি অংশের অভিযোগ, বাজারে ভারতীয় ইলিশকে বাংলাদেশের ইলিশ বলে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রকৃত উৎস সম্পর্কে ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট বাজারভিত্তিক সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঢাকার বাজারে ইলিশের দাম কত?

সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ইলিশের দামে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। বাজারভেদে ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের মাছ প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা বা তার কাছাকাছি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাছের আকার, মান, উৎস এবং বাজারভেদে এসব দামের পার্থক্য রয়েছে।

ফলে তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা ইলিশ বাজারে প্রবেশ করায় একদিকে ভোক্তাদের জন্য বিকল্প তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় ইলিশ উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশের ইলিশ এখন কেন ভারতের বাজারে নয়, ভারতীয় ইলিশ বাংলাদেশে?

ইলিশকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্যিক চিত্রেও এবার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। সাধারণত দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানির বিষয়টি আলোচনায় থাকে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

কিন্তু এবার বাংলাদেশের বাজারেই ইলিশের সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ঘটনা সামনে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের মাছ ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুজরাট থেকে আসা ইলিশই এখন পশ্চিমবঙ্গের বাজার হয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে।

ভারতের বিভিন্ন মাছ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা গুজরাটে ইলিশের ভালো সরবরাহের কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, উৎপাদন ভালো হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত মাছ পাওয়া যাচ্ছে এবং সেই মাছের একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতে কী হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে ইলিশ আমদানি করে বাজারের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের নিজস্ব ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

ইলিশের প্রজননক্ষেত্র ও বিচরণপথ রক্ষা, জাটকা নিধন বন্ধ, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ, নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং মাছের অভয়াশ্রম সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

কারণ ইলিশ শুধু বাংলাদেশের মানুষের প্রিয় মাছ নয়, এটি দেশের মৎস্য অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। একসময় যে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ ইলিশ উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করত, সেই দেশকে যদি নিজেদের বাজারের চাহিদা মেটাতে প্রতিবেশী দেশ থেকে ইলিশ আমদানি করতে হয়, তাহলে উৎপাদন কমার কারণগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা জরুরি।

বর্তমানে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি মূলত বাজারের ঘাটতি ও ব্যবসায়িক চাহিদা পূরণের একটি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হলেও, এই প্রবণতা বাংলাদেশের ইলিশ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারব্যবস্থাপনার দুর্বলতাগুলো নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *