মালয়েশিয়া প্রতিনিধি:
প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও কালিমান্তান (বোর্নিও) দ্বীপে ভয়াবহ দাবানল এবং কৃষিজমি পরিষ্কারের জন্য বন পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট বিষাক্ত ধোঁয়ায় ধোঁয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকা। এর ফলে জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে বায়ুর মান উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃত্রিম বৃষ্টি নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ধোঁয়াশার প্রভাব কমাতে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ও রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছে মালয়েশিয়া। এ কার্যক্রমে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (নাদমা), মালয়েশীয় আবহাওয়া বিভাগ (মেটমালয়েশিয়া), মালয়েশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএএম) এবং রয়্যাল মালয়েশিয়ান এয়ার ফোর্স (আরএমএএফ) যৌথভাবে কাজ করবে।
নাদমার মহাপরিচালক দাতুক মেওর ইসমাইল মেওর আকিম জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পিএম২.৫-এর মাত্রা ১৫০-এর ওপরে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ধোঁয়াশার প্রভাব কমাতে ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এ অভিযানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অংশ নেবে। মেঘ বপন কার্যক্রমের জন্য প্রধান বিমান হিসেবে আরএমএএফের একটি সি-১৩০ হারকিউলিস ব্যবহার করা হবে।
তবে ক্লাউড সিডিং কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করা আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং উপযুক্ত মেঘের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নাদমার মহাপরিচালক আরও বলেন, ধোঁয়াশার প্রভাব কমানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর বায়ুর মান উন্নত করতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে ক্লাউড সিডিং অন্যতম।
এদিকে মালয়েশিয়ার পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ু দূষণ সূচক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (এপিআইএমএস) অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশটির ১৭টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে অস্বাস্থ্যকর এপিআই মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে পুত্রজায়া, কুয়ালালামপুর ও সেলাঙ্গরের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রও রয়েছে।
পুত্রজায়ায় এপিআই রিডিং ছিল ১১১। চেরাসে ১৩৯ এবং বাতু মুদায় ১২৪ রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে সেলাঙ্গরের শাহ আলমে এপিআই রিডিং ছিল ১৫৪।
অস্বাস্থ্যকর এপিআই রেকর্ড হওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সাতটি সারাওয়াকে অবস্থিত। এর মধ্যে সেরিয়ানে সর্বোচ্চ ১৭৬ রিডিং রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া কুচিংয়ে ১৭২, শ্রী আমানে ১৬৬, সামারাহানে ১৬৫, সিবুতে ১৫৮, সারিকাইয়ে ১৫০ এবং বিন্টুলুতে ১০৩ রিডিং পাওয়া গেছে।
দাবানল ও বন পোড়ানোর ধোঁয়া থেকে সৃষ্ট ধোঁয়াশার কারণে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বায়ুর মানের অবনতি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্লাউড সিডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে বায়ুমণ্ডলের দূষণ ও ধোঁয়াশার প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।