নিজস্ব প্রতিবেদক:
জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণার পর রংপুর ও যশোরের পেট্রলপাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে উপচে পড়া ভিড়। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার আগে পুরোনো দামে তেল নিতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে পাম্পে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। তবে রাত ১২টায় নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পরপরই পাম্পগুলোতে ভিড় কমে আসে।
সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেরোসিনের দামও ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা করা হয়েছে। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে রংপুর নগরের মেসার্স সুরমা ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নিতে অসংখ্য মোটরসাইকেল আরোহী অপেক্ষা করছেন। হঠাৎ ভিড় বেড়ে যাওয়ায় পাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের যানবাহন সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।
এ সময় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। মোটরসাইকেল আরোহী আবু হানিফ বলেন, ‘কোনো কথা নাই, আলোচনা নাই, হঠাৎ লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় দিছে সরকার। এটা কেমন সরকার?’
সিরাতুন নবী নামের আরেক মোটরসাইকেল আরোহী বলেন, ‘দুই-চার টাকা বাড়াইলেও হইতো। তাই বলে লিটারে ২০ টাকা!’
ইমতিয়াজ হোসেন নামের আরেকজন বলেন, ‘এত বেশি দাম বাড়াইলো, কারও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখছি না। এভাবে কি চলে? মানুষের সবকিছু সয়ে গেল নাকি!’
রাতে রংপুরের মেসার্স আকবর অ্যান্ড সন্স পেট্রলপাম্পেও ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। রাত ১২টা যত ঘনিয়ে আসে, ততই আগের দামে তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে। রাত ১২টার পর নতুন দাম কার্যকর হলে পাম্পের মিটারে প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় আগে থেকে অপেক্ষায় থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের একজন নুরুল ইসলাম বলেন, ‘এক ঘণ্টা ধরে আগের দামে তেল পেতে এখানে আছি। আমি কেন আগের রেটে তেল পাব না? পাম্পের তেল তো শেষ হয়নি। তাহলে আগের তেল বেশি দামে বিক্রি করবে কেন?’
নজমুল ইসলাম নামের আরেক মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘সরকার বলল, ১২টা থেকে বেশি দাম কার্যকর। প্রশ্ন হচ্ছে, পাম্পে থাকা আগের তেল শেষ না হওয়া পর্যন্ত বেশি দামে বেচবে কেন? সরকার কি পাম্পমালিকদের আগের তেল বেশি দামে বিক্রির সুযোগ দিল?’
তবে রাত ১২টার পর নতুন দাম কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেট্রলপাম্পগুলোতে যানবাহনের ভিড় কমতে থাকে। একপর্যায়ে পাম্পগুলো অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায়।
পাম্পের দায়িত্বে থাকা শওকত হোসেন বলেন, লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় হঠাৎ পেট্রলপাম্পে ভিড় বেড়ে যায়। লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো কম কথা নয়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণার পর যশোরের পেট্রলপাম্পগুলোতেও ভিড় বেড়ে যায়। বর্ধিত মূল্য কার্যকর হওয়ার আগে পুরোনো দামে তেল নিতে রোববার রাত থেকেই বিভিন্ন পাম্পে ভিড় করেন চালকেরা।
রাত ১১টার দিকে যশোর শহরের এম কে রোড এলাকার মেসার্স তোফাজ্জল হোসাইন পেট্রলপাম্পে দেখা যায়, জ্বালানি তেল নিতে মোটরসাইকেলের চালকদের দীর্ঘ সারি। সড়কের এক পাশে যানবাহন সামলাতে নিয়োজিত কর্মীদেরও হিমশিম খেতে হয়।
লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার সময় বেসরকারি চাকরিজীবী জাহিদুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি হলেও আমাদের আয় বাড়েনি। এমন অবস্থায় একলাফে লিটারে ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো। বর্তমান সময়ে আমাদের মতো বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সংসার চালানো এমনিতেই কঠিন, তার ওপর এই বাড়তি খরচ সামলানো খুবই চ্যালেঞ্জিং হবে।’
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, দাম বাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত থেকেই অস্বাভাবিক ভিড় শুরু হয়। পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখতে পাম্পের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেন।
জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও দৈনন্দিন যাতায়াতের খরচে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে রংপুর ও যশোরের পেট্রলপাম্পগুলোতে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া হিসেবে আগের দামে জ্বালানি নেওয়ার জন্য চালকদের দীর্ঘ সারির চিত্র দেখা গেছে।