আইপিও তহবিল ব্যবহারে শর্ত লঙ্ঘন, সিকদার ইন্স্যুরেন্সের ১১ জনকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ নির্ধারিত খাতে ও নির্ধারিত সময়ে ব্যবহার না করা এবং অনুমোদন ছাড়া অর্থের খাত পরিবর্তনের ঘটনায় সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১১ জনকে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। জরিমানার আওতায় রয়েছেন কোম্পানিটির নয় পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং কোম্পানি সচিব। প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। বিএসইসির ১৬ সেপ্টেম্বরের এনফোর্সমেন্ট আদেশে বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, সিকদার ইন্স্যুরেন্স আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর কোম্পানিটিকে আইপিওর সম্মতিপত্র দেওয়া হয়। একই বছরের ২১ থেকে ২৮ ডিসেম্বর আইপিওর সাবস্ক্রিপশন সম্পন্ন হয়। পরে ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি উত্তোলিত পুরো অর্থ ন্যাশনাল ব্যাংকের এসক্রো হিসাবে জমা করা হয়।

কোম্পানির প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, উত্তোলিত ১৬ কোটি টাকার মধ্যে ৪ কোটি টাকা এফডিআরে বিনিয়োগ, ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ৬ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা ফ্লোর ক্রয় এবং ১ কোটি ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকা আইপিও-সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। এসব অর্থ তিন মাসের মধ্যে ব্যবহারের কথা ছিল।

তদন্তে বিএসইসি দেখতে পায়, এফডিআরের জন্য নির্ধারিত ৪ কোটি টাকার পরিবর্তে কোম্পানিটি ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, আইপিও ব্যয়ের খাত থেকে ২০ লাখ টাকা সরিয়ে অতিরিক্ত অর্থ এফডিআরে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। তবে অর্থের খাত পরিবর্তনের আগে শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৫১ শতাংশের অনুমোদন নেওয়ার শর্ত থাকলেও তা নেওয়া হয়নি বলে কমিশনের আদেশে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার মধ্যে ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। ফলে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা অব্যবহৃত থাকে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে দুটি চেক ফেরত যায় এবং ৪০ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার আটকে থাকায় নির্ধারিত বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কোম্পানির এ ব্যাখ্যা কমিশন গ্রহণ করেনি।

এ ছাড়া ফ্লোর কেনার জন্য বরাদ্দ ৬ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকার কোনো অর্থই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই খাতে ব্যবহার করা হয়নি। পরবর্তী সময়ে কোম্পানির পর্ষদ ওই অর্থ সরকারি ট্রেজারি বিলসে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা সিদ্ধান্তটি অনুমোদন করেন। তবে নির্ধারিত সময়ে অর্থ নির্দিষ্ট খাতে ব্যবহার না করাকেও আইপিওর শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে বিএসইসি।

আইপিও ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকার মধ্যে ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। অব্যবহৃত ২১ লাখ ২৮ হাজার টাকার মধ্যে ২১ লাখ টাকা এফডিআরে বিনিয়োগ করা হলেও এ ক্ষেত্রেও আগাম অনুমোদন নেওয়া হয়নি।

এসব বিষয়ে গত ৮ জুন বিএসইসির শুনানিতে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের ব্যাখ্যা দেন। তবে কমিশন তাদের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি। আইপিও তহবিল ব্যবহারের নির্ধারিত শর্ত না মানাকে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়।

জরিমানাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন কোম্পানির চেয়ারম্যান নাসিম সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজুল হক সিকদার, পরিচালক লিসা ফাতেমা হক সিকদারসহ নয় পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শেখ আবদুর রফিক এবং কোম্পানি সচিব আবদুর রাজ্জাক। বিএসইসির প্রকাশিত এনফোর্সমেন্ট তালিকাতেও সংশ্লিষ্ট ১১ ব্যক্তির নাম রয়েছে।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, জরিমানার অর্থ আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে কমিশনে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *