অনলাইন ডেস্ক:
নাটোরের লালপুরে সাইবার অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ওহিদুল মোল্লা (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছিলেন তিনি। এমনকি লুকিয়ে থাকার জন্য নিজের বাড়ির কবুতরের ঘরেও থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে নানা কৌশল অবলম্বন করেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি।
গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে লালপুর থানা পুলিশ ওহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। এসব সিম সাতটি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা সিম কার্ডগুলোর নম্বর সাদা কাগজে ছক করে লেখা ছিল। কোন সিমে বিকাশ এবং কোনটিতে নগদ ব্যবহার করা হয়, তা বোঝাতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নও ব্যবহার করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় ওহিদুলসহ ছয়জনকে আসামি করে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। একই অভিযানে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমো আইডি হ্যাকিং এবং প্রতারণা চক্রের আরও পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত নয়টি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—লালপুর উপজেলার মোহরকয়া গ্রামের জহুরুল বিশ্বাসের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৩), মৃত বেলাল আলীর ছেলে মোতাকাব্বির আলী (২৩), বিলমাড়িয়া গ্রামের মৃত কফের আলীর ছেলে শুকুর আলী (৫০), পানসিপাড়া গ্রামের আধার প্রামাণিকের ছেলে মো. আলামিন (২৩) এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের সামাদ মণ্ডলের ছেলে মুক্তার আলী (৩৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলমাড়িয়া গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ইমো হ্যাকিং চক্রের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি ছিলেন ওহিদুল। স্থানীয়ভাবে তাকে ‘হ্যাকার সম্রাট’ বা ‘ইমো সম্রাট’ নামে ডাকা হতো। তার অধীনে একটি হ্যাকিং চক্র সক্রিয় ছিল বলে পুলিশের দাবি।
গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল নিজের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় নজরদারির ব্যবস্থা করেছিলেন। গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে তার বাড়ি পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। পুলিশের কোনো দল বাড়ির দিকে এগিয়ে এলে আগেভাগেই জানতে পেরে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরিই ছিল এর উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, ওহিদুলের বাড়িটি প্রাচীরঘেরা পাকা। বাড়ির একটি কক্ষে কয়েকশ কবুতর রাখার জন্য ঘর তৈরি করা হয়েছিল। বাইরে থেকে সেটি সাধারণ কবুতরের ঘর মনে হলেও এর ভেতরেই ওহিদুলের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে একটি খাট, দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রসহ বিভিন্ন সুবিধা ছিল।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তার অধীনে এলাকায় একটি হ্যাকার চক্র সক্রিয় ছিল। সাইবার অপরাধ চালিয়ে যেতে তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।
ওসি বলেন, কবুতরের ঘরে বসেই ওহিদুল হ্যাকিংয়ের কাজ করতেন এবং অন্যের মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতেন। বিষয়টি জানার পর পুলিশ তার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। পরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুলসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।