কক্সবাজারে বিডিএস জরিপ ঘিরে ঘুষ-হয়রানির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজায় চলমান বাংলাদেশ ডিজিটাল সার্ভে (বিডিএস) কার্যক্রম ঘিরে ঘুষ দাবি, হয়রানি, দালাল তৎপরতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভূমিমালিকের অভিযোগ, জরিপের বিভিন্ন ধাপে সরকারি নির্ধারিত ফি ও প্রক্রিয়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভূমিমালিকদের অভিযোগ, ঝিলংজা ইউনিয়নে বিডিএস জরিপের কাজ চলাকালে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের ভুল-ত্রুটি দেখিয়ে অনেককে ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পরে কথিত দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে অর্থের বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

অভিযোগ রয়েছে, খতিয়ান সৃজন, পর্চা ও আপত্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে ভূমিমালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীদের বরাতে বলা হয়, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কাজ ঝুলিয়ে রাখা বা বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে।

এ ছাড়া চলতি মাসে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে ঝিলংজা মৌজার কয়েকজন ভূমিমালিকের অভিযোগ তুলে বলা হয়েছে, কিছু খতিয়ানে আপত্তি বা ত্রুটি দেখানোর পর কথিত দালালদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে তা সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ভূমিমালিকদের দাবি, জরিপ কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা দালালদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে খতিয়ানে আপত্তি বা ত্রুটি দেখানোর ক্ষেত্রে লিখিত কারণ, সংশ্লিষ্ট নথি এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিডিএস জরিপ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও প্রতিবেদনের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কিছু অমিল রয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগগুলোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে এসেছে।

এর আগে ২০২৫ সালেও ঝিলংজা মৌজায় বিডিএস জরিপ চলাকালে দালালদের তৎপরতা নিয়ে অভিযোগের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় দালালদের কারণে জরিপ দলের সদস্যরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং ভূমিমালিকদের একটি অংশ দালালদের আশ্বাসে অর্থ লেনদেনের ফাঁদে পড়ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী ভূমিমালিকরা বলছেন, জমির মালিকানা ও রেকর্ড নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাই ঝিলংজা মৌজার বিডিএস জরিপে ওঠা ঘুষ, দালাল তৎপরতা ও অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *