আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরাইলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ২৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে আলোচনার মধ্যে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
‘আমেরিকানস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামের একটি সংগঠন এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ৩০০ জনের বেশি মানুষ এতে অংশ নেন। তারা শতাধিক আইনপ্রণেতার কার্যালয়ে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের অধিকার, গাজা যুদ্ধ, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন দমনে অভিবাসন আইন ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেন।
ভার্জিনিয়ার ১৯ বছর বয়সী জেনা এসচেইক বলেন, তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে গর্বিত। তবে তাদের করের অর্থ যুদ্ধের পেছনে ব্যয় হোক—এটি তারা চান না।
ওহাইও থেকে আসা ২২ বছর বয়সী ইয়াসিন শেখ বলেন, পরিবর্তন আনার বিষয়ে তারা আশাবাদী। ইসরাইলকে অস্ত্র সরবরাহ সীমিত করার উদ্যোগের বিরোধিতা করা কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার কার্যালয়েও তিনি যাবেন বলে জানান।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরাইলের জন্য ২৮০ কোটি ডলারের একটি সামরিক সহায়তা প্যাকেজ এগিয়ে নিচ্ছে। এতে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের এমকে-৮৪ বোমাসহ প্রায় ৪০ হাজার ভারী বোমা থাকার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা থাকার কথা বলা হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, প্যাকেজটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কংগ্রেস কমিটিগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এটি চূড়ান্ত হয়নি।
অস্ত্র সরবরাহ ঠেকাতে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা উদ্যোগ নিয়েছেন। হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস প্রস্তাবিত অস্ত্র বিক্রির বিরোধিতা করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
‘আমেরিকানস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর নির্বাহী পরিচালক ওসামা আবু ইরশাইদ দাবি করেন, ইসরাইলকে নতুন অস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত মার্কিন জনমতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সমর্থন বাড়ছে এবং এর প্রভাব আইনপ্রণেতাদের ওপরও পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।
মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন দমনে অভিবাসন আইন ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়। অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের আইন সংস্কারের দাবি জানান।
অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজ নিয়ে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।