দুধকুমারের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

জেলা প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদীর তীব্র ভাঙনে একের পর এক বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি। স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় জিও ব্যাগ ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। বারবার নদীভাঙনে বসতভিটা হারিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন নদীপাড়ের মানুষ।

কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে অরক্ষিত ৭০টি পয়েন্টে তীব্র নদীভাঙন চলছে। গত এক বছরে সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বাণিয়াপাড়া গ্রামে নদীভাঙনে তিন শতাধিক বাড়িঘর ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৫ দিনে বিলীন হয়েছে আরও সাতটি বাড়ি। বর্তমানে নদীতীরবর্তী আরও প্রায় ৫০টি বাড়ি ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে।

ভাঙনকবলিত এলাকায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তাতে ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ছাড়া বর্তমানে কোনো প্রতিরক্ষা বাজেট না থাকায় ভাঙনকবলিত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

বাণিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম মাহাবুব, আহাদ, বাদশাসহ অনেকে বলেন, মুহূর্তের মধ্যে নদীর পাড় ধসে বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কোনোভাবেই তা ঠেকানো যাচ্ছে না। মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বাড়িঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে হচ্ছে। নদীভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার কাজও ভালোভাবে না হওয়ায় আবার ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে প্রায় শতাধিক বাড়িঘর বিলীন হয়ে যেতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহা আলম বলেন, তার বাড়িঘর নদীতে ভেঙে গেছে। পরিবার নিয়ে তিনি চরম বিপদে রয়েছেন। এখনো স্থায়ীভাবে থাকার জায়গা পাননি। অন্য জায়গায় ঘর করে বসবাস করছেন। ধারদেনা করে বাড়িঘর সরাতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য লেবু মিয়া বলেন, বারবার বাড়িঘর ভেঙে নিঃস্ব পরিবারগুলো আরও সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছে। নতুন করে জায়গা কেনা, বাড়িঘর নির্মাণ, নলকূপ ও ল্যাট্রিন স্থাপনে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ হতদরিদ্র পরিবারগুলো সরকারি কোনো আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলমান রয়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষার জন্য একটি ডিপিপি প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে। ডিপিপির সংস্কারকৃত কাজ বাস্তবায়িত হলে বাণিয়াপাড়ায় নদীভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *