কক্সবাজারে সিএনজি চালকদের ১০–২০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে প্রশ্ন

কক্সবাজার স্টাফ রিপোর্টার:

কক্সবাজার শহরে ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার ঘটনায় প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চালকদের হাতে থাকা জরিমানার স্লিপে এসব অর্থের উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে।

চালকদের অভিযোগ, তাদের অধিকাংশই নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসার চালানো এসব চালকের ওপর একসঙ্গে ১০ হাজার কিংবা ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হলে তারা ও তাদের পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েন। তবে কোনো চালক আইন লঙ্ঘন করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তারা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—কোন অপরাধে, সড়ক পরিবহন আইনের কোন ধারায় এবং কী প্রক্রিয়ায় এসব জরিমানা করা হয়েছে? জরিমানার স্লিপে উল্লেখিত ধারা, অপরাধের বিবরণ ও জরিমানার পরিমাণ কতটা আইনসঙ্গত, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

চালকদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশের টিআই খসরুর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সার্জেন্ট রুবায়েদের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত মামলা বা জরিমানা প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন চালক। তবে এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও সরকারি নথি যাচাই সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

চালকদের প্রশ্ন, আইন সবার জন্য সমান হলে নিম্নআয়ের সিএনজি চালকদের ক্ষেত্রেও আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না।

এ বিষয়ে জরিমানার স্লিপে উল্লেখিত অপরাধ, আইনের ধারা, জরিমানার পরিমাণ এবং মামলা পরিচালনার প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা জরুরি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চালকদের বক্তব্য, ট্রাফিক পুলিশের বক্তব্য এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হলে প্রকৃত ঘটনা আরও পরিষ্কার হবে।

সিএনজি চালকদের ভাষ্য, ‘আমরা আইনের বাইরে নই; কিন্তু আইন প্রয়োগের নামে যেন হয়রানির শিকার হতে না হয়।’ তাদের দাবি, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা তদন্ত করে দেখবেন এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *