নিজস্ব প্রতিবেদক:
কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং উঠতি বয়সী তরুণদের অপরাধপ্রবণতা থেকে দূরে রাখতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরের বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুলসংখ্যক কিশোরকে আটক করে তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
চট্টগ্রাম:
জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪৪৫ কিশোরকে শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে ৩৫৪ জনকে থানায় নেওয়া হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৭টি থানার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত ৪৪৫ কিশোরকে শনাক্ত করা হয়। পরে ৩৫৪ জনকে থানায় নেওয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ কিশোরকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ১৫২ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
লক্ষ্মীপুর:
লক্ষ্মীপুরে জেলা পুলিশের পাঁচ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ২৪৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সদর, চন্দ্রগঞ্জ, রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর থানায় ৪২ জন, চন্দ্রগঞ্জে ২১, রায়পুরে ৪৪, রামগঞ্জে ৩৭, রামগতিতে ৪৪ এবং কমলনগরে ৫৬ জন রয়েছেন।
আটকদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন মাহমুদ ও শিক্ষক শামছুদ্দিন বাবুল বলেন, শুধু শহর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করলে হবে না; গ্রামাঞ্চলেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আটক কিশোরদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদপুর:
চাঁদপুরের আট উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ৩৫৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।
জেলার আট থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পৃথকভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) নাদিরা নুর।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর নির্দেশে এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আট থানা ও ডিবি পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে চাঁদপুর সদরে ৩৫ জন, হাইমচরে ৪৮, ফরিদগঞ্জে ৪১, হাজীগঞ্জে ৩৭, কচুয়ায় ৬২, শাহরাস্তিতে ৪৫, মতলব উত্তরে ৫২ এবং মতলব দক্ষিণে ৩৬ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ডিবি পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে আরও ১৪ জনকে আটক করে।
পরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৫৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৫ জনের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, কিশোর গ্যাং ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মতলব উত্তর:
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বিশেষ অভিযানে ৫৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় এবং মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাবির হাসনাইন সানিবের নির্দেশে মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান জানান, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই চলছে। যাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যাবে না, তাদের অভিভাবকদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবির হাসনাইন সানিব বলেন, সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিল ছেড়ে বাইরে আড্ডা দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা, তাদের পড়ালেখায় ফিরিয়ে আনা এবং মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।