জেলা প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত মশারি থাকলেও তা নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পরও কয়েকজন ডেঙ্গু রোগীর বিছানায় মশারি না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন রোগী ও স্বজনরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাদের বিছানায় মশারি দেওয়া হয়নি। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে রোগীদের বিছানায় মশারি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি মশারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে মশা কামড়ানোর পর ওই মশার মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির শরীরে ডেঙ্গুর জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে ডেঙ্গু রোগীদের মশারির ভেতরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পঞ্চগড় পৌর শহরের রাজনগর এলাকার বাসিন্দা জুবায়ের হাসান ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ফেরার পর রোববার বিকেলে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত, অর্থাৎ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পরও তার বিছানায় মশারি ছিল না।
জুবায়ের হাসান বলেন, ‘গতকাল (রোববার) বিকেলে ভর্তি হয়েছি। এখন পর্যন্ত আমাকে কোনো মশারি দেওয়া হয়নি।’
বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী এলাকার ১৯ বছর বয়সী লিখন তেজগাঁও এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর বাড়িতে ফেরেন। পরে রোববার পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সোমবার দুপুরে তার বিছানায়ও মশারি দেখা যায়নি।
লিখন বলেন, ‘গতকাল (রোববার) ভর্তি হয়েছি। এখনো মশারি দেয় নাই। এখন আপনারা আসার পরে দিলো।’
এ বিষয়ে কর্তব্যরত নার্সদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার রিনা বেগম বলেন, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে পর্যাপ্তসংখ্যক মশারি দেওয়া আছে। রোগীদের মশারি না দেওয়ার বিষয়ে দায়িত্বে থাকা নার্স তাকে ‘ভুল হয়েছে, আর হবে না’ বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে জানানো হবে।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন আফরোজা বেগম রিনা বলেন, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণ মশারি দেওয়া আছে। রোগীদের কেন মশারি দেওয়া হয়নি, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।