স্টাফ রিপোর্টার:
সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ সহচর, ৫ আগস্টের আগে ছিলেন আওয়ামী লীগের শেল্টারে, এখন সদস্যের পিএস পরিচয়ে দরপত্র বাণিজ্য
বান্দরবান জেলার প্রতিনিধি | দৈনিক স্বাধীন সংবাদ
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের পরপরই আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সুবিধাবাদী হাইব্রিড সিন্ডিকেট। পরিষদের এক সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) পরিচয় ব্যবহার করে প্রায় ৪০০ মেট্রিক টন, অর্থাৎ ৪ লাখ কেজি খাদ্যশস্যের ডিও উত্তোলন করে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শাহাবুদ্দিন ইসলাম সাইফুল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত সাইফুল দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় ছিলেন।
অনুসন্ধানে তার সম্পর্কে যে তথ্যগুলো উঠে এসেছে:
১. সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসলাম বেবীর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক পার্টনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২. সাবেক আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইসহাক চেয়ারম্যানের ব্যবসায়িক পার্টনার।
৩. জেলা আওয়ামী লীগের নেতা কামাল মেম্বারের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে কাজ করতেন বলে স্থানীয়রা জানান।
স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের দাবি, জীবনে কোনোদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না এই শাহাবুদ্দিন ইসলাম সাইফুল। ৫ আগস্টের পূর্ব পর্যন্ত তিনি সরাসরি আওয়ামী লীগের শেল্টারে থেকে সব সুবিধা ভোগ করেছেন।
যেভাবে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ নতুনভাবে গঠিত হওয়ার পরপরই তিনি এক প্রভাবশালী সদস্যের পিএস পরিচয় দিয়ে জেলা পরিষদ থেকে ৪০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্যের ডিও বাগিয়ে নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি কেজিতে মাত্র ৫ টাকা করে লাভ হলেও যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২০ লাখ টাকা। এই বিপুল অর্থ লোপাটের ঘটনায় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের একাধিক ত্যাগী নেতা প্রশ্ন তুলেছেন—“আমরা যারা বছরের পর বছর হামলা-মামলা সহ্য করে রাজপথে ছিলাম, ৫ আগস্টের পর আমরা কয় টাকা পেলাম? আর হাইব্রিডরা এসে কোটি টাকার ডিও নিয়ে যাচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রুপিং থাকা রাজনীতির সৌন্দর্য, কিন্তু হাইব্রিড ও অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্নে সকলকে এক হতে হবে। তা না হলে দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে এবং ত্যাগী কর্মীরা চিরতরে বঞ্চিত হবে।