মাছুদুর রহমান আসলাম:
বরিশালের চিকিৎসক ডা. তহুরা আক্তারকে ঘিরে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি অভিযোগ শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহারের আবেদন পর্যন্ত গড়িয়েছে। অভিযোগকারী আফিয়া রহমান নীওন ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে অভিযোগটি প্রত্যাহারের কথা জানান।
লিখিত আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির বশবর্তী হয়ে তিনি অ্যানেস্থেশিওলজিস্ট সোহেল মিয়া এবং ডা. তহুরা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার পর অভিযোগকারী তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল এবং এর পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে প্রতীয়মান হওয়ায় তিনি আর অভিযোগটি বজায় রাখতে ইচ্ছুক নন বলে জানান।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি স্বেচ্ছায় অভিযোগটি প্রত্যাহারের আবেদন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তা গ্রহণ ও অনুমোদনের অনুরোধ জানান।
ঘটনার এই পরবর্তী পরিবর্তন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. তহুরা আক্তারকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগ ও আলোচনার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন সামনে এনেছে। কোনো অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তার সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ডা. তহুরা আক্তার বরিশালে গাইনি ও প্রসূতি রোগ, বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা এবং সংশ্লিষ্ট শল্যচিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা ও মতামত থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি, প্রত্যক্ষ বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক প্রমাণ থাকা জরুরি।
এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—২৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ দায়েরের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে অভিযোগকারী নিজেই লিখিতভাবে অভিযোগটি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন এবং তাঁর আবেদনে ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝির ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ফলে শুরুতে উত্থাপিত অভিযোগ এবং পরবর্তীতে দেওয়া প্রত্যাহারের আবেদনের মধ্যে যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেটি যথাযথভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সত্য, তথ্য ও প্রমাণের প্রশ্নে তালাশ বিডি আপসহীন। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রভাবশালী মহলের বক্তব্যকে অন্ধভাবে গ্রহণ নয়—নথি, প্রত্যক্ষ বক্তব্য, প্রাসঙ্গিক তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করেই প্রকৃত ঘটনা পাঠকের সামনে তুলে ধরাই তালাশ বিডির সাংবাদিকতার মূল অঙ্গীকার।
গুজব, অপপ্রচার, চাপ কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো মহলের প্রচারণা দিয়ে সত্যকে আড়াল করা যাবে না। অভিযোগ যেমন যাচাই করা হবে, তেমনি অভিযোগ প্রত্যাহার, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং ঘটনাটির প্রকৃত প্রেক্ষাপটও অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে।
তালাশ বিডির কাছে সাংবাদিকতা কোনো পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নয়; বরং তথ্যের আড়ালে থাকা সত্যকে নির্ভয়ে অনুসন্ধান করে জনস্বার্থে প্রকাশ করা। কোনো পক্ষকে আগেভাগে দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত না করে নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাই থাকবে আমাদের অঙ্গীকার।