ভোলায় চার ধাপে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসা পেলেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ

ভোলা প্রতিনিধি:

অর্থের অভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না—এমন অসহায়, দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে চার ধাপে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

আয়োজকদের দাবি, পুরো কর্মসূচিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন। এর আগে ১৯ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন ধাপে ভোলা সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে অন্তত ১০ হাজার মানুষকে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়েছিল।

শনিবার (৩ অক্টোবর) চতুর্থ ধাপের ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে এ পর্যায়ের কর্মসূচি শেষ হয়। চতুর্থ ধাপে চরসামাইয়া, ভেদুরিয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়নে ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। এর আগে প্রথম ধাপে রাজাপুর, পূর্ব ইলিশা ও পশ্চিম ইলিশা; দ্বিতীয় ধাপে বাপ্তা, কাচিয়া ও ধনিয়া এবং তৃতীয় ধাপে আলীনগর, উত্তর দিঘলদী ও দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।

ক্যাম্পগুলোতে গাইনি, শিশু ও মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শের পাশাপাশি রোগীদের প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ঢাকা থেকে চিকিৎসকদেরও আনা হয়েছিল।

চরসামাইয়া ইউনিয়নের ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, অর্থের অভাবে তারা ভোলা শহর বা বরিশালে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন না। বাড়ির কাছেই চিকিৎসক দেখানোর পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন।

ভেদুরিয়া ইউনিয়নের ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন বয়স্ক রোগীও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাদের ভাষ্য, আর্থিক সংকটের কারণে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ কেনা কঠিন হলেও বাড়ির কাছে এ ধরনের ক্যাম্প হওয়ায় তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

ভোলা জেলা বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন বলেন, সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে চার ধাপে ক্যাম্প পরিচালনার মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার মানুষকে চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি মানুষ সেবা নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, সদর উপজেলার সব ইউনিয়নে এ ধরনের চিকিৎসাসেবা পর্যায়ক্রমে আবারও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ এর আগে বাসসকে জানিয়েছিলেন, অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ মৌলিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *