আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে রোববার। এবারের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। দেশটির এই নির্বাচন ঘিরে শুধু ব্রাজিলেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো লাতিন আমেরিকায়ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকায় সাম্প্রতিক ডানপন্থী রাজনীতির প্রবণতার দিকও কিছুটা স্পষ্ট করতে পারে।
৮০ বছর বয়সী লুলা চতুর্থ ও শেষ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রচারে তিনি ভোটারদের সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপের কারণে ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে লুলার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারো সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগে জাইর বলসোনারোকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জনমত জরিপের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা কম। সে ক্ষেত্রে শীর্ষ দুই প্রার্থীর মধ্যে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোটারদের সমর্থনের ক্ষেত্রেও দুই প্রার্থীর মধ্যে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। ব্রাজিলের দরিদ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও নিম্নআয়ের ভোটারদের মধ্যে লুলার সমর্থন তুলনামূলক বেশি। ক্যাথলিক ও নারী ভোটারদের মধ্যেও তিনি এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চল, উচ্চআয়ের ভোটার এবং ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের মধ্যে ফ্লাভিও বলসোনারোর সমর্থন বেশি।
তবে দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধেই ভোটারদের একটি বড় অংশের নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে নীতি ও রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি পরস্পরের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণও গুরুত্ব পেয়েছে।
লুলা প্রচারে ফ্লাভিও বলসোনারোকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। অন্যদিকে ফ্লাভিও নিজেকে তাঁর বাবা জাইর বলসোনারোর তুলনায় আরও মধ্যপন্থী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তিনি লুলাকে অযোগ্য বলেও মন্তব্য করেছেন।
এদিকে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ব্রাসিলিয়ার ৫২ বছর বয়সী মোটরসাইকেলচালক জোয়েলিও কামার্গো বলেন, তিনি আগে লুলাকে ভোট দিয়েছেন। তবে এবার ভিন্ন কিছু চাইলেও ফ্লাভিও বলসোনারোকেও ভোট দিতে চান না। ফলে তিনি সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন।