ধামরাইয়ের এমপিকে প্রকাশ্যে মারামারির চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান রোমা

মাসুদুর রহমান:

ঢাকার ধামরাইয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জেরে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনকে প্রকাশ্যে মারামারি করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরী রোমা।

শনিবার (৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমের সামনে দেওয়া বক্তব্যে চেয়ারম্যান রোমা বলেন, সংসদ সদস্যের অনুসারীদের মাধ্যমে হামলা না চালিয়ে সাহস থাকলে তমিজ উদ্দিন যেন সরাসরি তার সামনে এসে দাঁড়ান। তখন দুজনের মধ্যে কার কতটুকু শক্তি, তা পরীক্ষা হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চেয়ারম্যান রোমার অভিযোগ, সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের অনুসারীরা তার মেয়ের জামাই জাহিদুল ইসলাম বাবু, কর্মী বাবুল সরদার, শরীফসহ ৬-৭ জনের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। বাবুল সরদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে বলে দাবি করেন রোমা।

রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়ে চেয়ারম্যান রোমা বলেন, তিনি তমিজ উদ্দিনের (এমপির) রাজনীতি না করার কারণে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে এমপির লোকজন। তিনি বলেন, ‘আমি তমিজের গ্রুপ করিনি। আমি মুরাদের গ্রুপ করেছি, মুরাদের পেছনে শ্রম দিয়েছি, নির্বাচনে তার মনোনয়নের জন্য কাজ করেছি। যে কারণে তমিজ সাহেব তার কিছু লোকজনকে কুকুরের মতো ক্ষেপিয়ে দিয়েছেন আমার বিরুদ্ধে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি কারও বাপের নয়, কোনো এমপিরও নয়। বিএনপি করার অধিকার সবারই আছে। আমার চৌদ্দ গোষ্ঠী বিএনপির রাজনীতি করে, এটা সবাই জানে। গত ১৭ বছরে আমি ১৪টি মামলা খেয়েছি। আমি ধামরাই থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদকও ছিলাম।’

রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই তার লোকজনের ওপর হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রোমা এমপিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি রোমা চ্যালেঞ্জ করলাম, সাহস থাকলে তিনি (এমপি) আমার সামনে এসে দাঁড়াক। দেখি, কার কতটুকু শক্তি আছে। তিনি যদি পারেন, আমার সামনে এসে সরাসরি ফেস করুক। আমি তাঁকে চ্যালেঞ্জ করলাম। তিনি তাঁর লোকজন না পাঠিয়ে সরাসরি আসুন। আমি তারেক রহমানের রাজনীতি করি। তমিজ সাহেবের রাজনীতি করি না, করবও না। তাঁর যদি সাহস থাকে, তাহলে আমাকে সরাসরি ফেস করুক।’

এ ঘটনায় দুই পক্ষেরই প্রায় ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এমপি তমিজ উদ্দিনের সমর্থক ও সংঘর্ষে আহত সূতিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সূতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, মাদক ও পরিবেশ দূষণের’ প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মোটরসাইকেল মহড়া দেন।

মহড়া চলাকালে কয়েকজন মহড়া থেকে বের হয়ে বালিথা পূর্বপাড়া এলাকায় বালিথা এ কে এইচ কারখানার পাশে গিয়ে সেখানে বসে থাকা ইউপি চেয়ারম্যান রোমার মেয়ের জামাই জাহিদুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারধর ও সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয় বলে স্থানীয়রা জানান। এতে দুই পক্ষেরই প্রায় ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত থাকা ধামরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মোটরসাইকেল মহড়া বের করেছিলেন। মহড়াটি এ কে এইচ কারখানার সামনে পৌঁছালে তাদের ওপর হামলা চালায় রোমার লোকজন। পরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আমাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এর মধ্যে শরীফুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনা এবং চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান রোমার বক্তব্যের বিষয়ে সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, সংঘর্ষের ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্য তার জানা নেই বলে জানান তিনি।

তবে স্থানীয় পর্যায়ে ঘটনাটি বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, চেয়ারম্যানের জামাতা জাহিদুল ইসলাম বাবু আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন এবং তার বাবা সূতিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বলে জানা গেছে। তবে এ দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সূতিপাড়া ইউনিয়নসহ ধামরাইয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *