প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, নাটোরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

নাটোর প্রতিনিধি:

নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহমেদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ভুয়া ভাউচারে অর্থ উত্তোলন, নিম্নমানের টিফিন সরবরাহ ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ঘেরাও করলে তিনি সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভুয়া উপস্থিতি দেখিয়ে টিফিন বাবদ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও করেন তারা।

এ ছাড়া রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, ম্যাগাজিন ও আইসিটি ফান্ডসহ বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত অর্থের চেয়ে বেশি আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা টিফিনের খাবারের মান নিম্নমানের। বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষককে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এসব কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ছিল।

বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবুল হায়াত এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজাহার আলী। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ মূলত টিফিনের খাবারের মান নিয়ে। একজন শিক্ষার্থী মাসে ১০০ টাকা টিফিন বাবদ দেয়। এই অর্থে ৩০ দিন কতটা ভালো নাশতা দেওয়া সম্ভব, সেটিও বিবেচনার বিষয়। এ ফান্ডে সরকার কোনো ভর্তুকি দেয় না। আর অন্যান্য যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে দেখবে।

নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আবুল হায়াত বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *