ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের লং মার্চ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কারাগারে বন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেছেন তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থকরা। রোববার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সোমবার পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে লং মার্চের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

খাইবার পাখতুনখোয়ায় বর্তমানে পিটিআই সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় যাত্রাবিরতি ও কর্মসূচি শেষে লং মার্চটি ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।

লং মার্চের নেতৃত্ব দিচ্ছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি রাজপথে নেমে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খানের দল ও পাকিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীনদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ তীব্র হয়। ইমরান খান তাঁর সরকারের পতনের পেছনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা থাকার অভিযোগ করে আসছেন। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সমর্থকদের একাংশ সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। এরপর দেশজুড়ে পিটিআইয়ের বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কয়েকজনকে সামরিক আদালতে সাজা দেওয়া হয়।

৭৪ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান নিজেকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে দাবি করে আসছেন। বিভিন্ন মামলায় তাঁর সাজা হয়েছে। তবে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় একটি মামলা ছাড়া অন্য মামলাগুলোর সাজা স্থগিত বা বাতিল হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর লং মার্চ আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল পিটিআই। তবে দলটির বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ায় কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়। পরে সরকারের সঙ্গে পিটিআইয়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ভেস্তে গেলে নতুন করে লং মার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সম্ভাব্য সংঘাত ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসসংবলিত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বড় বড় শিপিং কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে রাজধানীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ব্যবসা-বাণিজ্য অচল করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

সরকারের সঙ্গে পিটিআইয়ের আলোচনার বিষয়ে নাকভি বলেন, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রস্তাবিত যৌথ নীতিতে পিটিআই সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তবে পিটিআই সরকারের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দিয়ে দলকে নতিস্বীকারে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

এদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গি ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নাকভিসহ পাকিস্তানের কয়েকজন মন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, পিটিআই নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকার সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *