মোঃ আনজার শাহ
সবুজ মাঠের ডাকেই লুকিয়ে আছে তরুণদের মাদক ও অপরাধের অন্ধকার থেকে ফেরার পথ। কুমিল্লায় ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর জাতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন। তাঁর ভাষ্য, মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়তে ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই।
বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার ব্যবস্থাপনায় মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়। জাতীয় পর্যায়ের এ আসর কুমিল্লায় চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, কিশোর, তরুণ ও শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। তাদের মেধা, দক্ষতা ও শারীরিক সক্ষমতা বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
খেলাধুলা কেবল শরীরচর্চার মাধ্যম নয়, উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি মানুষের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মিলেমিশে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলে। সুস্থ বিনোদন ও ক্রীড়া কার্যক্রম তরুণদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কুমিল্লার প্রতিটি গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে পারলে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখা সহজ হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, মাদকের কারণে যেন কোনো তরুণের জীবন বিপন্ন না হয়, কোনো পরিবার যেন নিঃস্ব না হয়। এ জন্য শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে এবং আয়োজন করতে হবে আরও বেশি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা।
শুধু প্রতিযোগিতা আয়োজনেই নয়, সারা বছর খেলাধুলার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, কুমিল্লার প্রতিটি এলাকায় খেলাধুলার পরিবেশ গড়ে তোলা গেলে তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রতিযোগীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, খেলায় জয়-পরাজয়ই বড় বিষয় নয়; অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও পারস্পরিক সহযোগিতার শিক্ষা ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। তাঁর প্রত্যাশা, আজকের প্রতিযোগীদের মধ্য থেকেই কুমিল্লার প্রতিভাবান খেলোয়াড়েরা জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসবেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার বিকাশে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় উন্নত স্টেডিয়াম, খেলার মাঠ ও প্রয়োজনীয় ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় শহরগুলোতে আধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠারও পরিকল্পনা রয়েছে।
কুমিল্লায় একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার দিয়েছেন বলেও জানান। নারীদের ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ বাড়াতে নিরাপদ পরিবেশ ও বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সফল ক্রীড়াবিদদের কর্মসংস্থান ও পেশাগত সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তরুণদের ক্রীড়ায় সম্পৃক্ত করতে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকস, দাবা, সাঁতারসহ বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। তৃণমূল থেকে প্রতিভা খুঁজে এনে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানের শেষ দিকে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা, শিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, সুষ্ঠু, সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হবে এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ উঠে আসবেন।