নাশকতা ঠেকাতে মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নাশকতার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও ইন্ধনদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের দাবি, দেশের বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন কথিত নেপথ্য পরিকল্পনাকারী সেখান থেকে কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দেশের ভেতরেও তাদের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

সূত্রের ভাষ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু কর্মী বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এসব কর্মকাণ্ডে অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেশকে অস্থিতিশীল করার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শতাধিক নেতার নাম এসেছে বলে জানা গেছে। তাদের কয়েকজনকে বিভিন্ন অঞ্চল ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

সূত্র জানায়, রাজধানীর উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, গুলিস্তান, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, লালবাগ, তেজগাঁও, রমনা ও বাড্ডা এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কায় জোনভিত্তিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় মাঠপর্যায়ে অর্থ ও বিস্ফোরক সরবরাহকারীদের একটি তালিকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে বলে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র বলছে, অগ্নিসংযোগ বা ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনায় মাঠপর্যায়ে জড়িতদের একটি অংশ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হতে পারে। অল্প অর্থের বিনিময়ে তাদের এসব কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব ঘটনার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করাকেই এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, নাশকতার সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি নেপথ্যে থাকা নির্দেশদাতা ও অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও মাঠপর্যায়ে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে।

নাশকতা প্রতিরোধে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদেরও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নাশকতার মাধ্যমে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও তারা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *