মোঃআনজার শাহ :-
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কারখানা পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি। উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনার পাশাপাশি তিনি প্রতিমা নির্মাণের অগ্রগতি, কারিগরদের নিরাপত্তা এবং মণ্ডপগুলোর পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট/পরিষদের বরুড়া উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সনাতনী ঐক্যের বরুড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাজিব দত্ত।
পরিদর্শনকালে ইউএনও আসাদুজ্জামান রনি বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি আমাদের সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক অনন্য প্রতীক। বরুড়ায় যেন প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে, আনন্দের সঙ্গে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপের সার্বিক প্রস্তুতি, প্রতিমা নির্মাণের পরিবেশ এবং উৎসব আয়োজনের নানা দিক গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পূজাকে কেন্দ্র করে কোথাও যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে। আয়োজক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় উৎসবের আনন্দ আরও সুন্দর ও অর্থবহ হয়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শারদীয় দুর্গাপূজা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এ উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপে মণ্ডপে বইছে আনন্দের আমেজ; প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গার অবয়ব। সরেজমিনে সেই প্রস্তুতি দেখে উপজেলা প্রশাসন উৎসবের সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় বিষয়ে মতবিনিময় করে। কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতি বছর শত শত মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়; বরুড়াতেও রয়েছে বহু পূজামণ্ডপ।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রশাসনের এমন তৎপরতা স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটি ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করে সবার অংশগ্রহণে একটি নিরাপদ ও আনন্দময় উৎসব আয়োজনই এখন সবার প্রত্যাশা। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের এই বন্ধন অটুট থাকুক এমনটাই চাওয়া স্থানীয় সচেতন মহলের।